জান ভেন্ট্রোজেনের আত্মঘাতী গোলে ইউরোর রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা।
বিস্ময়কর হলেও সত্যি, শেষ আটে উঠে গেলেও ‘ওপেন প্লে’ থেকে আসরে এখনও গোল করতে পারেনি ফ্রান্স! এখন পর্যন্ত খেলা চার ম্যাচে দলটি নিজেরা গোল করতে পেরেছে মাত্র একটি, গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে পোল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে। প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল পেয়েছে তারা দুটি।
.png)
বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ, ইউরো) বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের ধারা অব্যাহত রইল, পাঁচ ম্যাচের সবগুলোই জিতল তারা।
শুরু থেকে আক্রমণে ফ্রান্স এগিয়ে ছিল। তবে উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না কেউই। একাদশে ফেরা আন্তোনিও গ্রিজমান দশম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। তবে অনায়াসে ঠেকান গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর বক্সের ভেতর থেকে উড়িয়ে মারেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
২৪তম মিনিটে ফ্রান্সের বক্সের বাইরে জেরেমি ডকুকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন গ্রিজমান। কেভিন ডি ব্রুইনের ফ্রি-কিক শেষ মুহূর্তে পা দিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক মাইক মাইগনান। তিন মিনিট পর বেলজিয়ামের ইয়ানিক কারাসকোর শট ডিফেন্ডার থিও হারনান্দেজের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
প্রথমার্ধে গোলের জন্য ৯টি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রান্স, বেলজিয়াম শটই নিতে পারে স্রেফ একটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বক্সের বাইরে থেকে চুয়ামেনির শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান বেলজিয়ান গোলরক্ষক কোয়েন কাস্তেলস। ৫৪তম মিনিটে এমবাপ্পের নেয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।
৬১তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়ে যায় বেলজিয়াম। ডি ব্রুইনের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন কারাসকো। তার প্রচেষ্টা স্লাইডে ব্যর্থ করে দলকে বাঁচান হারনান্দেজ। ৭১তম মিনিটে রোমেলু লুকাকুর নিচু শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক মাইগনান।
ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ভাঙে ‘ডেডলক।’ সতীর্থের পাস বক্সে পেয়ে একটু জায়গা বানিয়ে ডান পায়ে কোনাকুনি শট নেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা রান্দাল কোলো মুয়ানি।
বল ভেন্ট্রোজেনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। এ সময় কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক কাস্তেলসের, তিনি আগেই ঝাঁপ দেন অন্য দিকে। ওই গোলে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের জয় মিলল ঠিকই, তবে আক্রমণভাগের বিবর্ণতা কাটল না এখনো।
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পর্তুগাল অথবা স্লোভেনিয়ার মুখোমুখি হবে দুবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।