বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-২০তে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নেমেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। যেখানে অজিদের দেওয়া ১৫৫ রান তাড়া করতে নেমে ৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগ্রেসরা। ধবলধোলাইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বাঘিনীদের জন্য দুঃস্বপ্নের এই সিরিজ।
২০১২ সাল থেকে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ টি-২০তে বিচরণ বাংলাদেশের। সময়ের হিসেবে এক যুগের বেশি সময় ধরে এই ফরম্যাটে খেললেও বাঘিনীরা এখনো অন্য দলগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে। যার প্রমাণ সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রতিটি ম্যাচেই একেবারে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে নিগার সুলতানার দল।
.png)
অবশ্য বাংলাদেশের ভক্তদের যে তথ্য একটু ভাবতে বাধ্য করবে তা হলো ৭৮ রান টি-২০তে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর হয়। এর চেয়েও কম রানে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়েছে আরো ১৮ বার।
চলুন একনজরে দেখে নেয়া যাক টি-২০ বাংলাদেশের সর্বনিম্ন পাঁচ স্কোর:
৩০ রানেই অলআউট, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান
২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর। কক্সবাজারে সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০তে মুখোমুখি বাংলাদেশ-পাকিস্তান। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে ৮৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী মেয়েরা। ঘরের মাঠে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩০ রানেই থেমে যায় সালমা খাতুনের দল। যা টি-২০ সংস্করণে বাংলাদেশের মেয়েদের সর্বনিম্ন স্কোর।
বৃষ্টির কারণে ১৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান সংগ্রহ করে। ৮৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি বোলারদের বোলিং তোপে পড়ে মাত্র ৩০ রানেই অলআউট হয় টিম টাইগ্রেসরা। পাকিস্তানি বোলারদের পক্ষে আনাম আমিন ৩ ওভার বোলিং করে কোন রান রা দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
কিউইদের বিপক্ষে ৩২ রানে অলআউট
পাকিস্তানের কাছে লজ্জার রেকর্ড গড়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। তবে এবার ঘরের মাঠে নয়, দেশের বাইরে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মাঠে গড়ানো ম্যাচটির কথা অবশ্য ভুলেই যেতে চাইবেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
সিরিজের প্রথম টি-২০তে আগে ব্যাট করে ১৬৪ রানের বিশাল সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩২ রানে গুটিয়ে যায় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
আবারো সেই পাকিস্তান, এবার ৪৪ রানেই শেষ টাইগ্রেসরা
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ৩০ রান। সেবার ঘরের মাঠে এমন লজ্জার রেকর্ড গড়েছিল সালমারা। একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তৃতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
২০১৬ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ৪৪ রানের অপমান উপহার দিয়েছিল পাকিস্তানের নারীরা। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে প্রায় ১৬ ওভার খেলে ৪৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশের মেয়েরা। লক্ষ্য তাড়ায় ১০ ওভারেই ম্যাচ জিতে যায় বাবর-আফ্রিদির দেশের মেয়েরা।
বিশ্বকাপে ৪৬ রানে অলআউট বাঘিনীরা
২০১৮ সালে নারীদের টি-২০ বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন নিয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে গড়ানো আসরটিতে টাইগ্রেসদের নেতৃত্বে ছিলেন সালমা খাতুন।
তবে আসটির গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের সামনে বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বাংলাদেশের বাঘিনীদের। উইন্ডিজদের দেওয়া ১০৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৪৬ রানে গুটিয়ে যায় টিম টাইগ্রেস। এটি বাঘিনীদের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর।
এশিয়ান গেমসে ৫১ রানে বিধ্বস্ত জ্যোতিরা
গত বছরটা দুর্দান্ত কেটেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। ঘরের মাঠে ভারতকে শক্তি দেখিয়ে চীনে উড়ে গিয়েছিলেন জ্যোতি-পিংকিরা। দেশটির হাংজুতে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে অংশ নিতে।
এশিয়ান কাপের ক্রিকেট ইভেন্ট থেকে ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিরলেও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছিল জ্যোতিরা। আসরের সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে পূজা ভাস্ট্রেকারের বোলিং তোপে ৫১ রানে থামতে হয় বাংলদেশকে। জবাবে ৮.২ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় ভারতের মেয়েরা।