দলের দারুণ জয় আবার মাঠে বসে দেখলেন নাইটদের মালিক শাহরুখ খান। তার জন্ম দিল্লিতে। আর দিল্লির হার সেই দলের ডাগ আউটে বসে দেখলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। যিনি কলকাতার ঘরের ছেলে।
টস জিতে বুধবার ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেকেআরের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দিল্লির অধিনায়ক রিশাভ পান্টও টস জিতলে ব্যাট করতেন বলে জানান। কেন তারা ব্যাট করতে চাইছিলেন সেটা বোঝা গেল কলকাতার ইনিংস দেখে।
.png)
সুনীল নারাইন প্রথম থেকেই ছক্কা হাঁকাতে শুরু করেন। দু’বার তার ব্যাটে বল লেগে উইকেটরক্ষক পান্টের হাতে ক্যাচ গিয়েছিল। কিন্তু দু’বারই শুনতে পাননি পান্ট। একবার রিভিউ নিতে গেলেও সময় পার হয়ে যায়, অন্যবার তো রিভিউ নিলেনই না।
সেই দু’বার প্রাণ ফিরে পেয়ে ৩৯ বলে ৮৫ করলেন নারাইন। সাতটি করে চার এবং ছক্কা হাঁকান তিনি। অর্থাৎ ৭০ রান তিনি করেন শুধু বাউন্ডারি মেরে। মিচেল মার্শের বলে শেষ পর্যন্ত পান্টের হাতে ক্যাচ দিয়েই আউট হয়ে যান নারাইন।
ইনিংস গড়ার জন্য নারাইনের সঙ্গী ছিলেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। গত ম্যাচেই দলে নেয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু সেই ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স আগে বল করায় ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নেমেছিলেন ১৮ বছরের তরুণ।
তবে বুধবার ছিলেন প্রথম একাদশে। ব্যাট করতে নামলেন তিন নম্বরে। আর করলেন ৫৪ রান। দিল্লির ছেলে অঙ্গকৃশ। বুধবার সেই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই করলেন হাফসেঞ্চুরি।
নারাইন এবং অঙ্গকৃশের পর দিল্লির বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন আন্দ্রে রাসেল। আইপিএলে দিল্লির দলের হয়েই অভিষেক হয়েছিল ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের। পরে তিনি কেকেআরে যোগ দেন।
পুরনো দলের বিরুদ্ধে ১৯ বলে ৪১ রান করলেন রাসেল। রিঙ্কু সিং ৮ বলে ২৬ রান করেন। তাদের ঝড়ো ইনিংস কলকাতাকে ২৭২ রান তুলতে সাহায্য করে। দিল্লির বিরুদ্ধে বুধবার মোট ১৮টি ছক্কা মারেন কেকেআরের ব্যাটাররা।
দিল্লি ভুগল স্পিনারের অভাবে। কুলদীপ যাদবের চোট রয়েছে। আক্সার প্যাটেল ছাড়া দলে কোনো স্পিনার ছিল না দিল্লির। পেসাররা সেভাবে ছাপ ফেলতে পারলেন না। আক্সারকে দিয়ে এক ওভারের বেশি করাননি পান্ট। সেই ওভারে ১৮ রান দেন আক্সার।
পেসারদের মধ্যে সব থেকে বেশি রান দেন আনরিখ নরকিয়ে। ৪ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার। কাশ্মীরের পেসার রাসিখ সালাম তিন ওভারে ৪৭ রান দেন।
বাঁহাতি পেসার খলিল আহমেদ ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। ইশান্ত শর্মা ২ উইকেট নেন। কিন্তু তিনি ৩ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে দেন। কোনোভাবেই কেকেআরের রানের গতি আটকাতে পারেনি দিল্লি।
২৭৩ রানের লক্ষ্য মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আউট হয়ে যান পৃথ্বী শ। তারপর একের পর এক ব্যাটার এসেছেন, বড় শট খেলতে গেছেন এবং আউট হয়েছেন। কখনও মনে হয়নি দিল্লি জিততে পারে।
এদিন মিচেল স্টার্ক উইকেট পেয়েছেন। তিনি দু’টি উইকেট নেন। হারশিত রানা চোট পাওয়ায় বল করতে পারেননি। তাতেও কোনো সমস্যা হয়নি কেকেআরের। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে মাঠে নামা পেসার বৈভব আরোরা ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন।
৩ উইকেট তুলে নেন বরুণ চক্রবর্তীও। ৪ ওভারে তিনি দেন ৩৩ রান। দলে স্পিনার থাকা যে কতটা জরুরি তা বুঝিয়ে দেন বরুণ এবং নারাইন। তারা দু’জনে মিলে ৮ ওভারে ৬২ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন। একটি উইকেট নেন রাসেলও।
দিল্লির বাকি ব্যাটাররা রান না পেলেও অধিনায়ক পান্ট ২৫ বলে ৫৫ রান করেন। তিনি আগের ম্যাচেও হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন। রান পেয়েছেন ট্রিস্টান স্টাবসও। তিনি ৩২ বলে ৫৪ রান করেন।
কলকাতা এখন পর্যন্ত এবারের আইপিএলে অপরাজিত। তিনটি ম্যাচের তিনটিই জিতল দলটি। যা আইপিএল ইতিহাসে কেকেআরের সেরা শুরুর রেকর্ড।