অবশেষে ব্যাট হাতে কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন সৌম্য সরকার। তার দেড়শো ছাড়ানো ইনিংসে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। অনবদ্য এ ইনিংসে অনেক রেকর্ডও গড়েছেন টাইগার ওপেনার।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমে স্বীকৃত ক্রিকেটে সর্বশেষ শতকের দেখা পেয়েছিলেন সৌম্য। এবার জাতীয় দলে এসেছেন বিস্ময় জাগিয়েই, তবে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে ভরসা রাখা হয় তার ওপর। প্রথম ম্যাচে ফিরেছিলেন ০ রানে।
.png)
নিউজিল্যান্ডের নেলসনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সৌম্যের ১৬৯ রানে ভর করে ৪৯.৫ ওভারে ২৯১ রান করে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মুশফিকুর রহিমের ৪৫। এখানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সৌম্যের ইনিংসের মাহাত্ম্য।
ইনিংসের ৩৯.১ ওভারে অশোকের বল অফ সাইডে ঠেলে দিয়েই শূন্যে লাফ দেন সৌম্য। ব্যাটের ওপর হেলমেট নিয়ে দুহাতে ধরে করেন ধ্যানের ভঙ্গি। এ সময়ই যে তিনি পান ক্যারিয়ারে তৃতীয় শতকের দেখা। এ ওপেনারের দ্বিতীয় শতকটি এসেছিল ২০১৮ সালের অক্টোবরে।
আজকের সেঞ্চুরিতে সৌম্য ছাড়িয়েছেন ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারকে। নিউজিল্যান্ডের কোনো এশিয়ান ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক এখন সৌম্য। আগের যে রেকর্ডটি ছিল টেন্ডুলকারের। তিনি ২০০৯ সালে ক্রাইস্টচার্চে করেছিলেন অপরাজিত ১৬৩ রান।
সৌম্যের আজকের এই ইনিংস নিউজিল্যান্ডের মাটিতে চতুর্থ কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সেঞ্চুরি। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এটি। তার সামনে ১৭৬ রান করা লিটন দাস।
এছাড়া চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে দেড়শো পার করেছেন সৌম্য। এর আগে তামিম ও লিটন দাস দেড়শোর মাইলফলক স্পর্শ করেন। যেখানে তামিমের রয়েছে দুটি ইনিংস।
১২৯ রান করার সঙ্গে সঙ্গে সৌম্য ছাড়িয়ে যান মাহমুদউল্লাহকে। ২০১৫ সালে কিউই সফরে মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশি হিসেবে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছিলেন। সেবার তিনি ১২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। যেটি এতদিন ছিল কিউইদের মাটিতে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ ইনিংস। আজ সেটিকে টপকে গেলেন সৌম্য।