ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]
আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ-২০২৩

বিশ্বকাপের ক্রাইসিসম্যান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:০৬, ১০ নভেম্বর ২০২৩
বিশ্বকাপের ক্রাইসিসম্যান
ছবি: সংগৃহীত

দল সফল হোক বা ব্যর্থ, তাদের পারফরম্যান্সে খুব একটা হেরফের হয় না। প্রায় ম্যাচে এই ক্রাইসিস ম্যানরা হয়ে যান রিয়েল হিরো। কখনো দলকে জেতানোর গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেন, আবার কখনো দলের হারের লজ্জাটা কমিয়ে নেন। পারলে একাই কান্ডারি বনে যান। যাদের আরেক নাম ক্রাইসিসম্যন। যেখানে সবার প্রথমে আছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর ভারতের বিরাট কোহলি, নিউজিল্যান্ডের ড্যারেল মিচেল আর বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চলুন তাদের বীরত্বের গল্পগুলো শুনি একবার-

ম্যাক্সওয়েল: দ্য মনস্টার

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের যাত্রাটা অস্ট্রেলিয়ার মতোই মলিন ছিল। অসিরা দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় চারদিক থেকে রব উঠে অস্ট্রেলিয়া এবার আর সেমিফাইনালে যেতে পারবে না। যেটা ম্যাক্সওয়েলসহ আরো কয়েকজনকে সাময়িক দুশ্চিন্তায় ফেললেও তারা নিজের প্রতি আস্থা রাখেন। শেষ পর্যন্ত সেমিতে যাওয়া ঠেকেনি অসিদের। তবে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সেমির টিকিট কাটার পেছনে বড় অবদান রাখেন ম্যাক্সওয়েল। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার অতি মানবীয় ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার সেমির পথটা পরিষ্কার করে দেয়। সেদিন আফগান ঘূর্ণি আর পেসে তালগোল পাকায় অসিরা। মাত্র ৯১ রানে সাত উইকেট হারানোর পর হারের হতাশা ভর করে অস্ট্রেলিয়ার ঘাড়ে। কিন্তু সব হতাশা একাই তাড়ান ম্যাক্সওয়েল। উপহার দেন অপরাজিত ২০১ রান। তার আগে ডাচদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েও ঝড় তুলেছিলেন। সেদিন দিল্লিতে ৪৪ বলে ১০৬ রান করেছিলেন। যদিও প্রথম কটি ম্যাচে ভালো করতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু দলের প্রয়োজনে ঠিকই হাজির হলেন ভয়ংকর রুপে।

কোহলি: চেজ মাস্টার 

তিনি যতক্ষণ পিচে থাকবেন ততক্ষণ নাকি রানের অভাব হয় না। চলমান বিশ্বকাপে তেমনটাই দেখা যাচ্ছে। ভারতের জার্সি গায়ে যতক্ষণ বিরাট কোহলি টিকে থাকবেন ততক্ষণে তাদের রানের চাকা ঘুরে। নিয়মিত রান করে একের পর রেকর্ডও ভাঙছেন তিনি। দলের জিততে যদি ২০০ রানও দরকার হয় সতীর্থদের সাথে নিয়ে কোহলি সেটা আদায় করে নিচ্ছেন দারুণভাবে। এরিমধ্যে ৮ ম্যাচে ৫৪৩ রান করেছেন কোহলি। যার মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি আর চারটি হাফসেঞ্চুরি। আর দশজনের মতো ব্যাটিং করেন না কোহলি। একেবারে বাজে বল পেলে বাউন্ডারি হাঁকান। না হলে সিঙ্গেলস তার ভরসার জায়গা। খুব একটা বল ডট দেন না। শর্ট রান বের করে নিজের ব্যাটিং গড়ও ঠিকঠাক রাখেন এই ভারতীয়।

ড্যারেল মিচেল: সাহসী যোদ্ধা

নিউজিল্যান্ডের মতো হতাশার মেঘ বোধহয় কারো আকাশে নেই। বারবার বড় আসরে আলো ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত নিভে যাওয়াটা যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এবার সেই বৃত্ত ভাঙতে চান কিউইরা। যে পথে তাদের অন্যতম ত্রাতা ড্যারেল মিচেল। ৮ ইনিংসে চারশোর বেশি রান করা এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারকে ঘিরেই কিউইদের বড় স্বপ্ন। যেদিন অন্যদের ব্যাটে রান আসে না, যেদিন ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনেও লাভের অঙ্ক শূন্য। সেদিন নায়কের বেশে দাঁড়িয়ে যান মিচেল। সর্বশেষ বেঙ্গালুরুতে রান রেট বাড়িয়ে জয় পাওয়ার দিনে ৩১ বলে ৪৩ রান করেছিলেন এই তারকা। তার বড় অস্ত্র সাহসী ব্যাটিং। দলের ও ম্যাচের অবস্থা বুঝে যে কোনো ধরনের মিশনে তিনি সফলতা পেয়ে যান খুব সহজে। 

মাহমুদউল্লাহ: সাইলেন্ট কিলার

বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ ধরা হয় এবারের আসরটিকে। তরুণ আর অভিজ্ঞদের মাঝে দুই একজন বাদে কেউ ভালো করতে পারেননি। তবে যার বিশ্বকাপ খেলারই কথা ছিল না সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দেখান আসল খেল। প্রায় প্রতি ম্যাচেই রান করেছেন তিনি।পেয়ে যান সেঞ্চুরিও। নীরবে নিভৃতে তিনি চালিয়ে গেছেন নিজের ব্যাটিংটা। জবাব দিয়েছেন নিন্দুকদের। এটাই তার শেষ। আর বিশ্বকাপে দেখা যাবে না রিয়াদকে। তবে শেষটায় দলকে তেমন কিছু এনে দিতে না পারলেও ব্যক্তিগতভাবে হয়েছেন সফল। নিজের  শেষ ৬ ইনিংসে ২৯৬ রান করেছেন তিনি। যার ধারেকাছেও কেউ নেই। তাই হতাশার আসরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হয়ে থাকবে রিয়াদের রিয়েল হিরো হয়ে ফেরাটা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেআর/ এএসএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!