শুরুতে বল হাতে শ্রীলংকাকে ৫০ রানে অল আউট করা। এরপর ব্যাট হাতে কোনো উইকেট না হারিয়ে হেসেখেলে জয়। ভারতের এমন ইতিহাস সৃষ্টির মূলমন্ত্র কী ছিল?
ঘরের মাঠে শ্রীলংকার ব্যাটিং লাইন আপ যে এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে, তা হয়তো খোদ দলটির ক্রিকেটাররাও ভাবতে পারেননি। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের দর্শকরাও হয়ে পড়েছিলেন হতবিহ্বল। ভারত নিজেও হয়তো আশা করেনি, তারা এতো সহজে ফাইনাল জিতবে।
.png)
প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ইতিহাস বলে, এখানে আগে ব্যাট করা দল জয়ের দেখা পেয়েছে বেশি। চলতি এশিয়া কাপেও দেখা গেছে একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। বিগত ৯ দিনের মাঝে প্রেমাদাসায় এটি ছিল ষষ্ঠ ম্যাচ। সব ম্যাচেই সময় যত গড়িয়েছে, ততই কঠিন হয়ে উঠেছে ব্যাট করা।
আর তাই রোববার টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিতে দুইবার ভাবেননি শ্রীলংকা অধিনায়ক দাসুন শানাকা। এমনকি টস জিতলে ব্যাট করতেন, এমন তথ্য জানান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। তাই কিছুটা এগিয়ে থেকেই ব্যাট করতে নামে স্বাগতিক দল।
তবে এদিন ভারতীয় বোলাররা, বিশেষ করে মোহাম্মদ সিরাজ ছিলেন নিজের সেরা ছন্দে। ভারতের ইতিহাস সৃষ্টি করা জয়ের নেপথ্য নায়ক ছিলেন তিনিই। যার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে অসহায় ছিলেন শ্রীলংকার ব্যাটাররা।
এদিন টসের পরপরই বৃষ্টি নামে। অল্প সময়ের এই বৃষ্টিতে পেস বোলারদের জন্য কিছুটা সহায়ক হয়ে ওঠে পিচ। আর সেই সঙ্গে যোগ হয় জাসপ্রিত বুমরাহ আর সিরাজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। দুইয়ে মিলে একদম শুরু থেকেই বল সুইং করাতে থাকেন বুমরাহ আর সিরাজ।
বল বুঝে ধরে খেলার বদলে সুইং মিস করে শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলংকা। আকস্মিক এ বিষয়টির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না লংকানরা। আর তাই বল ছেড়ে দেওয়ার বদলে উল্টো আক্রমণ করতে যান আসালঙ্কা, সামারাবিক্রমারা।
আর এদিকে দারুণ লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বল নিয়ে খেলতে থাকেন সিরাজ। তার দেওয়া ফাঁদে পা দিয়েই একেরপর এক উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলংকা। যার শেষটা করেন হার্দিক পান্ডিয়া। বোলিং ইউনিট হিসেবে একসঙ্গে সবাই জ্বলে ওঠা, পাশাপাশি সিরাজের সেরা দিনের ফলশ্রুতিতেই ভারত পায় বিশেষ সাফল্য।
ভালো ডেলিভারিকে সম্মান না করে অতি-আক্রমণাত্মক হয়েছিলেন শ্রীলংকার ব্যাটাররা। পরিস্থিতি না বুঝে ব্যাটিং করার খেসারত দিয়েছেন তারা। তবে ভারতের বোলিং ইউনিটকেও এর কৃতিত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে মোহাম্মদ সিরাজকে।
শুরুর আক্রমণের ধারা ইনিংসজুড়ে একইভাবে বজায় রেখে লংকান ব্যাটারদের বোকা বানানোর মাধ্যমেই সাফল্য পেয়েছেন ভারতের বোলাররা। তাই দলটির ইতিহাস সৃষ্টির মূলমন্ত্র ছিল পিচ ও কন্ডিশন বুঝে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং, এ কথা বলাই যায়।