ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

মারিও জাগালো: ব্রাজিলের ‘বুড়ো নেকড়ে’

আশরাফুল ইসলাম আকাশ
প্রকাশিত: ১৪:২৭, ৯ আগস্ট ২০২৩
মারিও জাগালো: ব্রাজিলের ‘বুড়ো নেকড়ে’
ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী দল কোনটি? এমন প্রশ্নের উত্তর মিলবে সহজেই, লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে সেলেসাওরা। যার মধ্যে চারটি সোনালি ট্রফিই স্পর্শ করেছেন দেশটির এক কিংবদন্তি ফুটবলার। এটাও কি সম্ভব!

হ্যাঁ, আসলেই সম্ভব। নামটি যদি মারিও জাগালো হয়, কেবল তাহলেই সম্ভব। খেলোয়াড়ি জীবনে দুইবার এবং শিষ্যদের তাতিয়ে সেরাদের সেরা বানিয়ে দু’বার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। পরবর্তীতে যিনি সুন্দর ফুটবল ও শতভাগ সাফল্যের কারণে ‘বুড়ো নেকড়ে’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

১৯৩০ সালে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়েতে ইতিহাসে প্রথমবারের পর্দা ওঠে বিশ্বকাপ ফুটবলের। এ আসরে যুগোস্লাভিয়ার কাছে নাটকীয় হারে বিদায় নেয় ব্রাজিল। আর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা ঘরে তোলে স্বাগতিক উরুগুয়েনরা।

Advertisement

উরুগুয়েতে বিশ্বকাপের পর্দা নামার পরের বছরই আজকের এই দিনে (৯ আগস্ট) ব্রাজিলের ম্যাসিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন মারিও জাগালো। এরপর সেখানেই বেড়ে ওঠা। 

মূলত বিশ্বকাপের কারণে লাতিন আমেরিকায় ফুটবল বিপ্লব ঘটে। ফলে ফুটবলেই মনোনিবেশ করেন মারিও জাগালো। কিন্তু তখনও বেশ ছোট তিনি। এজন্য ম্যাসিওর ওলিতে-গলিতে ফুটবল নিয়ে কেবল ছোটাছুটি শুরু করেছেন। মাঝেমধ্যে সুযোগ এলেই এলাকাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। এভাবেই কয়েক বছর কেটে যায় ম্যাসিও শহরে জন্ম নেয়া ছেলেটির।

১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান মারিও জাগালো। ছবি- সংগৃহীত

চেহারায় তারুণ্যের ছাপ পড়তেই স্টেডিয়ামের নিরাপত্তরক্ষী হিসেবে কাজ শুরু করেন জাগালো। ১৯৫০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। সেবার ফেবারিট হিসেবেই ফাইনালে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। অন্যদিকে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ১৯৩০ বিশ্বকাপজয়ী শক্তিশালী উরুগুয়ে।

একোতো বিশ্বকাপ, অন্যদিকে ঘরের মাঠে ফাইনাল ম্যাচ। যেখানে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মারিও জাগালো। তবে চোখের সামনেই মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের হার দেখতে হয় তাকে। শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে যায় সেলেসাওরা।

ঘরের মাঠে ব্রাজিলের হার দেখার দু’বছর আগেই পেশাদার ফুটবলের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মারিও। ১৯৪৮ সালে আমেরিকা ফুটবল ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ারের শুরু। বছর খানেক ক্লাবটির জার্সিতে খেলে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোতে যোগ দেন তিনি। এরপর ক্লাবটির হয়ে একটানা ৯ বছর মাঝমাঠ দাপিয়ে বেড়ান। ঘরোয়া ক্লাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে জাতীয় দলে ডাক পড়ে তার।

১৯৫৮ সালের ৪ মে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় মারিও জাগালোর। স্বপ্নের শুরুটাও হয়েছিল তার স্বপ্নের মতোই। এ ম্যাচের ১২তম মিনিটে নান্দনিক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৮২তম মিনিটে ব্রাজিলের পঞ্চম ও শেষ গোলটিও আসে তার পা থেকেই। এতে ম্যাচটিতে ৫-২ গোলের ব্যবধানে প্যারাগুয়েকে হারায় ব্রাজিল।

একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে সুইডেনে শুরু হয় ফুটবল বিশ্বকাপ। যেখানে ফেবারিট হিসেবে অংশ নিয়েছে ব্রাজিল। এ দলে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই স্কোয়াডে জায়গা পান মারিও জাগালো। তবে মধুর সমস্যা হলো- নিল্টন সান্তোস। যিনি লেফটব্যাক হিসেবে খেলতেন। অন্যদিকে লেফট উইঙ্গারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাগালো। আর এখানেই বাজিমাতের ছক কষেন সেলেসাও কোচ ভিসেন্তে ফিওলা।

১৯৬২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে একমাত্র ও শেষ গোল করেন মারিও। ছবি- সংগৃহীত

মারিও জাগালো লেফট উইঙ্গারের পাশাপাশি খুব দ্রুতই নিচে নেমে আক্রমণভাগও সামলাতে পারতেন। আর সেটিই দরকার ছিল কোচ ফিওলার। কেননা নিল্টন যখন ফুলব্যাকদের আক্রমণে যাবেন তখন নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলাবেন মারিও। ৪-২-৪ ফরমেশনে এর চেয়ে ভালো সমাধান পেয়ে যাবেন সেকথা হয়তো ভাবতেই পারেননি ভিসেন্তে ফিওলা। যেই ভাবনা, সেই কাজ।

ফিওলার পরিকল্পনায় একের পর এক সাফল্য পেতে থাকে ব্রাজিল। পেলে, ভাভা, দিদি ও মারিওদের অপ্রতিরোধ্য পারফরম্যান্সে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ছোঁয়ার সুযোগ এসেছে ব্রাজিলের। কিন্তু সেই ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ফিওলার শিষ্যরা। সুইডেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে কিছুসময়ের খেই হারিয়ে ফেলে লাতিন আমেরিকার দেশটি। ৪ মিনিটের গোলের ধাক্কা কাটিয়ে তবে ধীরে ধীরে বল দখল ও দারুণ ফিনিশিংয়ে ম্যাচে লিড নেয় ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক সুইডিশদের ৫-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় সেলেসাওরা। এরপর জুলে রিমে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন পেলে-জাগালোরা। যেটি ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ফাইনালে চতুর্থ গোলটি করেন মারিও জাগালো। গোলটি নিয়ে তিনি বলেন, সেদিন দলের ৪র্থ গোলটি আমি করেছিলাম। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে একটা কর্নার ক্লিয়ার করতে গিয়ে এক সুইডিশ ডিফেন্ডার দিদির পায়ে বল তুলে দেন। দিদি বলটা ঠিকমত স্পর্শ করতে পারেনি, ফলে বল চলে আসে আমার কাছে। আমার ঠিক সামনেই সুইডিশ গোলরক্ষক দাঁড়িয়ে ছিল, আমি তার পায়ের ফাঁকা লক্ষ্য করেই শট করলাম এবং বাঁ প্রান্ত দিয়ে বলটি জালে জড়িয়ে গেলো!

১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান মারিও। ছবি- সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের পরপরই ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে বোটাফোগেতে পাড়ি দেন মারিও জাগালো। এরপর সেখানেও নিজের দাপুটে ফুটবল প্রদর্শন করেন। ক্লাবটিতে থাকা অবস্থাতেই ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপেও জাতীয় দলে ডাক পান এ লেফট উইঙ্গার।

চিলি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দায়িত্ব পান আইমোর মোরেইরা। তবে ফিওলার মতোই ৪-২-৪ ফরমেশনে দলকে খেলান তিনি। স্বাভাবিকভাবেই মারিও জাগালোর গুরুত্ব টিকে যায় ওই আসরে। এ আসরের প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকোর মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। যেখানে মেক্সিকানদের ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় সেলেসাওরা। এ ম্যাচের প্রথম গোলটিও করেন মারিও। যেটি ছিল ওই বিশ্বকাপে মারিওর প্রথম এবং শেষ গোল। কেননা প্রথম ম্যাচের পর আর কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে প্রত্যাশিতভাবেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে লাতিন আমেরিকার দেশটি।

ব্রাজিলকে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দিয়ে খানিকটা নিস্তেজ হয়ে পড়েন মারিও জাগালো। তবে সেটি পারফরম্যান্সের কারণে নয়, বরং তাকে ভোগাচ্ছিল ইনজুরি। চিলি বিশ্বকাপ জয়ের পর একটানা কয়েকবার ইনজুরির কবলে পড়েন তিনি। ফলে ১৯৬৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দেন। তবে ফুটবলকে বিদায় বললেও চার দেয়ালে নিজেকে বন্দি করেননি তিনি। মাঠের ফুটবলকে বিদায় বলে ডাগআউটে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করেন সাবেক এ তারকা ফুটবলার।

ফুটবলকে বিদায় বলেই কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন মারিও। ছবি- সংগৃহীত

যেখানে খেলোয়াড়ি জীবনের ফুলস্টপ দিয়েছিলেন, সেখানেই কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন মারিও জাগালো। ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরের ক্লাব বোটাফোগেতে কোচিং করানো শুরু করেন তিনি। এর দুই বছর পর ব্রাজিলের অন্তবর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। তবে ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে সেলেসাওদের পূর্ণমেয়াদী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। যার ফলও হাতেনাতেই পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি।

মারিও জাগালোর নেতৃত্বে মেক্সিকো বিশ্বকাপে খেলতে যায় ব্রাজিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর সেলেসাওদের ৪-২-৪ ফরমেশনেই খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর এতে দেখা দেয় জটিলতা। কেননা এই ফরমেশনে জারসন ও রিভেলিনোকে একসঙ্গে খেলানো সম্ভব ছিল না। আর এখানেই বুদ্ধিমতার পরিচয় দেন মারিও।

বিশ্বমঞ্চে সফলতা আনতে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ খেলেন মারিও। নানা হিসেব কষে রিভেলিনোকে লেফট উইঙ্গার ও জারসনকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে সেট করেন। আর এতেই বাজিমাত! সাফল্যের সঙ্গে সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়ার খ্যাতি অর্জন করলেন মারিও। তার সাজানো ১৯৭০ বিশ্বকাপের স্কোয়াড সেসময় অপ্রতিরোধ্য দল হিসেবে উপমা পেয়ে যায়। ফলে ব্রাজিল জ্বরে একে একে কুপোকাত হয়ে পড়ে বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলো। এমনকি বিশ্বকাপের ফাইনালেও ইতালিকে ৪-১ গোলে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দেয় মারিওর শিষ্যরা। যার মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। একই সঙ্গে প্রথম কোনো কোচ ও ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েন তিনি।

জুলে রিমে ও বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মারিও। ছবি- সংগৃহীত

মারিও জাগালোর পর খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতেন শুধু জার্মান কিংবদন্তি বেকেনবাওয়ার (১৯৭৪ ও ১৯৯০) এবং ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম (১৯৯৮ ও ২০১৮)।

ব্রাজিলকে তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর কারণে ১৯৭৪ বিশ্বকাপেও দায়িত্বে অটল থাকেন মারিও। কিন্তু মেক্সিকো বিশ্বকাপজয়ী অনেক ফুটবলারই সেবার অবসর নিয়েছিলেন। স্বাবাভিকভাবেই ওই বিশ্বকাপে তেমন সুবিধা নিতে পারেনি তারা। এতে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় সেলেসাওরা। ফল হিসেবে কোচের চেয়ারও ছাড়তে হয় জাগালোকে।

ব্রাজিলের দায়িত্ব ছেড়ে বিভিন্ন ঘরোয়া ক্লাবে কোচিং করান কিংবদন্তি মারিও। এরপর আবারো ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোচিং প্যানেলে যুক্ত হন মারিও। তবে হেড কোচ নয়, কার্লোস আলবার্তো পাহেইরার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

সবশেষ ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। এরপর টানা ২৪ বছর শিরোপা স্পর্শ করতে পারেনি সেলেসাওরা। এই আক্ষেপ রীতিমতো বিষিয়ে তুলেছিল লাতিন আমেরিকার দেশটিকে। এজন্য অভিজ্ঞ জাগালোকে নিয়ে দল সাজাতে শুরু করেন পাহেইরা। যেখানে দুঙ্গা, রিভালদো, রবার্তো কার্লোস ও তরুণ রোনালদোকে সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন স্কোয়াড সাজিয়ে প্রথম দল হিসেবে ব্রাজিলকে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দেন পাহেইরা-জাগালো জুটি। 

এরপর একই দল নিয়ে ১৯৯৭ সালে কোপা আমেরিকা এবং কনফেডারেন্স কাপ জেতান মারিও জাগালো। ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে আবারো ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ খেলতে যায় ব্রাজিল। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্কে জড়িয়ে যান মারিও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রোমারিওকে ইনজুরির কারণে দলে রাখেননি জাগালো, কিন্তু রোমারিও দাবি করেন যে তিনি ফিট আছেন! ফলে রোমারিকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠে যায়।

নেইমারের সঙ্গে মারিও জাগালো। ছবি- সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল। ফলে রোমারি বিতর্ক ভাটা পড়ে যায়। কিন্তু ফাইনালের আগে ইনজুরির কবলে পড়েন সেলেসাওদের প্রাণভোমরা রোনালদো। পুরোপুরি ফিট না হলেও তাকে ফাইনাল ম্যাচের মূল একাদশে রাখেন জাগালো। এতে মাঠে নামলেও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন রোনালদো। ফলস্বরূপ ফ্রান্সের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারে লাতিন আমেরিকার দেশটি।

ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হার তো বটেই, ইনজুরির কারণে অসুস্থ রোনালদো মাঠে নামিয়ে তোপের মুখে পড়েন জাগালো। অন্যদিকে একই কারণে রোমারিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি তো ছিলই। সবমিলিয়ে জাগালোকে সরিয়ে দেয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে রোনালদোকে মাঠে নামানোর ব্যাখ্যায় জাগালো বলেন, আমি যদি রোনালদোকে সেদিন না নামাতাম আর ব্রাজিল হারতো, তাহলে সবাই বলতো রোনালদোকে না নামানোর জন্যই ব্রাজিল হেরেছে। তাছাড়া রোনালদো নিজে মাঠে নামার জন্য জোর করছিলো। তাই সেদিন রোনালদোকে একাদশে রাখা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।

সবশেষ ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মারিও জাগালো। তবে ২০০২ সালের পর ব্রাজিল আর কখনোই কোয়ার্টার ফাইনালের গন্ডি পেরোতে পারেনি সেলেসাওরা। স্বাভাবিকভাবেই জার্মান বিশ্বকাপেও কোয়ার্টারে থেমে যায় ব্রাজিলের জয়ের রথ।

শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে বেঁচে আছেন মারিও। ছবি- সংগৃহীত

আজ ৯২ পেরিয়ে ৯৩ বসন্তে পা দিলেন ব্রাজিলের ‘বুড়ো নেকড়ে’ মারিও জাগালো। বর্তমানে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে বেশ সরব এ ব্রাজিল কিংবদন্তি।

কিংবদন্তি চরিত্র হলেও মারিও জাগালোকে নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয় না। বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার শো কেসে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জয়ের মেডেল রয়েছে। একবার শুনলাম আমার এই কৃতিত্বের জন্য ব্রাজিলিয়ানরা মারাকানায় আমার নামে একটা প্রতিকৃতি করছে। আমি জানি না সেই প্রতিকৃতিটা ঠিক কোথায় আছে, হয়তো আমি মারা যাওয়ার পর সেই প্রতিকৃতিটা দৃশ্যমান হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!