ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

ফিফা-আইসিসি, কার আয় কত?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:১৯, ১১ মে ২০২৩
ফিফা-আইসিসি, কার আয় কত?
ছবি: সংগৃহীত

সারা বিশ্বের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর সারা বিশ্বের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তবে এই দুটি সংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন হলো ফিফা। কারণ এই সংস্থাটির সদস্য দেশের সংখ্যা প্রায় ২১১, যা জাতিসংঘের ১৯৩ দেশের চেয়ে বেশি। ফলে বলা যেতেই পারেই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। অন্যদিকে, ফুটবলের চেয়ে পরিসর অনেক সীমিত ক্রিকেটের। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ক্রমেই নিজেদের পরিধি বাড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় এই দুটি সংস্থার উংস প্রায় একই। তার হলো সম্প্রচার স্বত্ব। এছাড়া রয়েছে বিপণন স্বত্ব, টিকিট বিক্রি, টুর্নামেন্ট আয়োজন, সনদ স্বত্ব। দীর্ঘ মেয়াদে নিজেদের আয়ের হিসাব করে থাকে ফিফা ও আইসিসি। গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ফিফার কাউন্সিলে ২০২২ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন করে ফিফা।

সেখানে দেখোনো হয়েছে ২০১৯-২২ এই ফিফা ৭৫৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ আয় হয়েছে ৩৪২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চার বছরের মধ্যে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৫ বিলিয়ন দর্শক ফুটবল দেখেছেন, যা বিশ্বের জনসংখ্যারও অর্ধেকের বেশি। সম্প্রচার স্বত্বের বাইরে অ্যাডিডাস, কোকাকোলা, হুন্দাই, কিয়া, কাতার এয়ারওয়েজ, ভিসার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিপণন খাতে এসেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়।

Advertisement

ফিফার প্রতিবেদন বলছে, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে আয়ে ভাটা পড়লেও কাতার বিশ্বকাপের কারণে আয়ের অঙ্কে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, যা সংস্থাটিকে ২০১৫-১৮ চক্রের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি আয় এনে দিয়েছে। ফিফার দেওয়া হিসাবটি চার বছরের। ভাগ করলে প্রতিবছর তাদের ১৮৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার আয় দাঁড়ায়।

ধবার নতুন চক্রের জন্য আইসিসি ৬০ কোটি মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক মডেল প্রস্তাব করেছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৫০০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত এই চক্র থেকে পূর্ণ সদস্যরা পাবে ৫৭৭৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা মোট আয়ের ৮৮.৮১ শতাংশ। আর সহযোগী সদস্যরা পাবে ৭২৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। 

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) আগামী চার বছরের জন্য বাণিজ্যিক মডেল প্রস্তাব করেছে। আইসিসির প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক মডেল থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করবে ভারত। প্রতি বছর ২৫০২ কোটি ৭২ লাখ টাকা পাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। যা আইসিসির মোট আয়ের ৩৮.৫০ শতাংশ। অন্য কোনো বোর্ড ১০ শতাংশও পাবে না। 

বিসিসিআইয়ের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ৪৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আয় করবে ইসিবি, যা আইসিসির আয়ের ৬.৮৯ শতাংশ। বিসিসিআই, ইসিবির পর তৃতীয় স্থানে আছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সিএ পাবে ৪০৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা মোট আয়ের ৬.২৫ শতাংশ। 

চারটি জিনিসকে মানদণ্ড ধরে আইসিসির এই নতুন চক্রের বাণিজ্য মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, দেশটির ক্রিকেট ইতিহাস, আইসিসি ছেলে ও মেয়েদের টুর্নামেন্টগুলোতে গত ১৬ বছরের পারফরম্যান্স, আইসিসির বাণিজ্যিক আয়ে অবদান এবং আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে নির্ধারিত অর্থ। 

আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে পারফরম্যান্সের মানদণ্ড হিসেবে মূলত ধরা হয়েছে নকআউট পর্বের পারফরম্যান্স। ২১.৯ শতাংশ জয় নিয়ে সবার ওপরে আছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার পরে আছে ইংল্যান্ড (১৮.৫ শতাংশ)। তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত নকআউট পর্বে জিতেছে ১৭.৪ শতাংশ। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে এখানে বিবেচনায় আনা হয়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএসএম
ট্যাগ: আইসিসি ফিফা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!