বৃহস্পতিবার রাতে স্তাদিও ফ্রিউলি স্টেডিয়ামে তৃতীয়বারের মতো সিরি’আ শিরোপা ঘরে তুলেছে নাপোলি। এতে লিগের পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। অবশ্য এ জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ভিক্টর ওশিমেনের।
১৯৯০ সালে প্রায় একা হাতেই নাপোলিকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। কে ভেবেছিল আরেকটি লিগ জয়ের জন্য ৩৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে। অবশেষে ওসিমেনের হাত ধরেই অবসান ঘটলো সেই অপেক্ষার। ম্যারাডোনার পর অনেক রথীমহারথীই এসেছেন নাপোলিতে। কিন্তু কে ভেবেছিল একসময় নাইজেরিয়ার রাস্তা হকারি করা বালকটি আজ ক্লাবটির মধম্যণি হয়ে উঠবেন!
.png)

বৃহস্পতিবার নাপোলির জন্য সমীকরণটা এমন ছিল যে, উদিনেসের বিপক্ষে ড্র করলেই নিশ্চিত স্কুদেত্তো। শুরুতে উদিনেস এগিয়ে গেলেও ওসিমেনের গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে নাপোলি। লিগে এটি ওসিমেনের ২২ তম গোল। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তার উপরে নেই আর কোনো ফুটবলার। এই মৌসুমের আগেও খুব একটা পরিচিত ছিলেন না তিনি। তবে এখন তার নামের পাশে অনায়াসেই জুড়ে যায় ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার’ ট্যাগটি। অন্তত নাপোলির ভক্তরা তো তাকে সেটা মানবেনই।
নাপোলির মৌসুমের শুরুটা হয়েছে টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে। কালিদু কুলিবালির মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিক্রি করে দেওয়ায় ক্লাব মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন ভক্তরা। তবে দিনশেষে তারাই এখন সবচেয়ে সুখী মানুষ।
ওশিমেন বলেন, ‘নেপোলিতানদের চেয়ে কেউই এই স্কুদেত্তোর (লিগ শিরোপা) জন্য বেশি যোগ্য নয়। আন্ডারডগ হিসেবে মৌসুম শুরু করেছিলাম, খুব কম লোকই আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিল। এই দল একতাবদ্ধ থেকেছে... মৌসুমের শুরু থেকে আমরা বিশ্বাস করেছি যে আমাদের অসাধারণ দল রয়েছে এবং আমরা স্কুদেত্তো উপহার দিতে পারব। এখন আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত।’

এই পর্যায়ে আসার রাস্তাটা সহজ ছিল না ২৪ বছর বয়সী ওশিমেনের। ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছেন। তখন বয়স কত মনে ছিল। এর তিন মাস পরই চাকরি চলে যায় বাবার। পরিবারের এই কঠিন সময়ে ভাই বোনের সঙ্গে রাস্তায় হকারি করতেন তিনি।
নাপোলির তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমার ভাই ক্রীড়া পত্রিকা বিক্রি করত, বোন কমলা ও আমি পানি বিক্রি করতাম লাগোসের রাস্তায়। জীবনের একটি সময় বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে আমাকে। তবে দিনশেষে এটাই আমি। সবগুলোকে আলাদা করা কঠিন তবে প্রতিটি ঘটনাই আমার ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে।’

তবে ২০১৫ সালে নাইজেরিয়াকে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জিতিয়ে আলোচনায় আসেন ওশিমেন। সেই টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচ খেলে ১০ গোল করেন তিনি। জার্মান ক্লাব ভলফসবুর্গের হয়ে শুরু করেন পেশাদার ফুটবলারের ক্যারিয়ার। এরপর চারলেরোয়-লিল ঘুরে ২০২০ সালে যোগ দেন নাপোলিতে।
এখন হয়তো বড় বড় ক্লাবগুলো হাত বাড়াবে ওশিমেনের দিকে। তবে নাপোলি ছাড়লেও ওশিমেনকে হৃদয় থেকে কখনো মুছে ফেলতে পারবে না নেপোলিতানরা। ম্যারাডোনার মতোই হয়তো তাকে আগলে রাখবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম!