জীবন বাঁচাতে পালানো রোবেলই ইপিএলের প্রথম নারী মুসলিম রেফারি
জীবন মানুষকে কত অভিজ্ঞতাই না দেয়! ১৬ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে সোমালিয়ার ভয়ংকর গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে লন্ডনে পালিয়ে এসেছিলেন জাওয়াহির রোবেল। ভাগ্যের ফেরে তিনিই এখন ইউরোপের অন্যতম বড় ফুটবল আসর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) প্রথম নারী মুসলিম রেফারি। একদিন ইপিএলে খেলা পরিচালনা করার স্বপ্নও দেখেন তিনি।
জাওয়াহির রোবেলের ডাক নাম জেজে। প্রথমে স্থানীয় খেলাগুলোতে রেফারি হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সুনিপুণভাবে খেলা পরিচালনা করার দরুণ স্থানীয় ক্লাবগুলোর ম্যাচগুলোতেও রেফারি থাকা শুরু করেন জেজে।
এ বিষয়ে রোবেল বলেন, আমি প্রথমে স্থানীয় খেলাগুলো পরিচালনা করতাম। একদিন কিছু লোক বললো, তাদের খেলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত রেফারি নেই। আমি রেফারি হতে ইচ্ছুক কিনা। আমি না করিনি। আমি ফুটবলকে ভালবাসি, এই খেলার নিয়মগুলোকেও ভালবাসি। যারা আমাকে রেফারি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।
অবশ্য প্রথমেই রেফারি হওয়ার ইচ্ছা ছিল না রোবেলের। কিছুদিন খেলে তারপরই এই পেশায় আসতে চেয়েছিলেন তিনি। রোবেল বলেন, আমি প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লাব থেকে খেলোয়াড় হিসেবে প্রস্তাব পাই। কিন্তু তখন আমার বাবা-মা বাধা দেয়। তারা চেয়েছিলো আমি যেন আশেপাশের অন্য মেয়েদের মতো সাধারণ জীবনযাপন করি। আমার স্বপ্ন ছিলো বড় ফুটবলার হব ও খেলোয়াড়ি জীবন শেষে রেফারি হব। সে স্বপ্ন পূরণ না হলেও যা হতে পেরেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।
খেলা পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান রোবেল। অবাক হওয়ার পাশাপাশি অনেক খেলোয়াড় তাকে অপমানও করে ফেলেন বলে জানান এই নারী রেফারি। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনাও তুলে ধরেন রোবেল। তিনি বলেন, আমার খেলা পরিচালনার প্রথম যেদিন মাঠে যাই, সেদিন রেফারির জামা পরে যাইনি, হিজাব পড়েছিলাম। পরে কর্মরত ব্যক্তির কাছে গিয়ে যখন রেফারির জামা চাই তখন তিনি রীতিমত অবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, এটা অসম্ভব। আপনি কি সত্যিই রেফারি?
এখন অন্যদের অবাক হওয়া দেখে মজা পান বলে জানান রেবেল। খেলার মাঝে পুরুষ ফুটবলারদের অনেকেই তাকে সহজে মানতে চান না। জীবনযুদ্ধে জয়ী এই নারী বলেন, মাঝে মাঝে খেলার মাঠে ফুটবলাররা আমাকে দেখে বলে এটাতো পুরুষদের খেলা। তখন আমি তাদের বলি, এটা পুরুষদের এবং নারীদের সবার খেলা। তুমি এসব না বলে খেলায় ঠিকভাবে মনোযোগ দাও ও গোল করো। অবশ্য খেলা শেষে অনেকেই আমার কাছে ক্ষমা চায়, এসব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোবেল মনে করেন, মানুষের দুর্বলতা ও অন্যদের সঙ্গে সেটা প্রকাশ করার মাঝেই তার শক্তি লুকিয়ে থাকে। ইপিএলের প্রথম এই নারী মুসলিম রেফারি বলেন, দুর্বলতা প্রকাশ মানেই পৃথিবীর শেষ কথা নয়। বরং এটা থেকে তারা শক্তি পেতে পারে এবং নিজেদের আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে কষ্ট ছাড়া পৃথিবীতে কিছু অর্জন করা যায় না।