ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

আত্মীয়তা বজায় রাখার গুরুত্ব ও ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:০৬, ৮ অক্টোবর ২০২৫
আত্মীয়তা বজায় রাখার গুরুত্ব ও ফজিলত
ছবি: অন্তর্জাল

ইসলামী শরিয়তে আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ও তাদের খোঁজখবর নেয়া অত্যন্ত গুরুত্ব এবং ফজিলতপূর্ণ কাজ। পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সতর্ক থাকো রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়দের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের পর্যবেক্ষক’। (সূরা: নিসা, আয়াত: ১)

নবীজি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও তার উম্মতদের এ ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখে’। (বুখারি, হাদিস: ৬১৩৮)

যারা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে না, রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘জ্ঞাতিবন্ধন আরশে ঝুলন্ত আছে এবং সে বলছে, যে আমাকে অবিচ্ছিন্ন রাখবে, আল্লাহ তার সম্পর্ক তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন রাখবেন। আর যে আমাকে বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তার সম্পর্ক তার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করবেন’। (রিয়াদুস সালেহিন, হাদিস: ৩২৮)

Advertisement

আর তাই প্রতিটি ব্যক্তির উচিত আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করা। পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা যাদের সঙ্গে সুব্যবহার করতে বলেছেন, তাদের মধ্যে মা-বাবার পরই নিকট আত্মীয়দের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদাত করো আল্লাহর, তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক কোরো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-বাবার সঙ্গে, নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম, মিসকিন, নিকট প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথি, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের যারা দাম্ভিক, অহংকারী’। (সূরা: নিসা, আয়াত: ৩৬)

আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্কের পুরস্কার রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেও দেন। তা হলো রিজিকের প্রশস্ততা। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে। (বুখারি, হাদিস : ২০৬৭)

ইয়া আল্লাহ! আমাদের সবাইকে আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ও তাদের খোঁজখবর নেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: ধর্ম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!