ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

মৃতের পক্ষ থেকে কাজা রোজা-নামাজ আদায় করা যাবে কি?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৫২, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
মৃতের পক্ষ থেকে কাজা রোজা-নামাজ আদায় করা যাবে কি?
ছবি: অন্তর্জাল

পৃথিবীতে আমরা কেউ স্থায়ী নই। জন্মের পর মৃত্যু অবধারিত। অর্থাৎ প্রতিটি প্রাণির জন্য মৃত্যু অবধারিত। আবার পৃথিবীতে কোনো শিশুর জন্মের পূর্বে দিনক্ষণের বিষয়ে ধারণা থাকলেও, কবে মৃত্যু হবে তার ধারণা কারো কাছে নেই। পৃথিবীতে আমরা কেউ স্থায়ী নই।

প্রতিটি মানুষকে নির্ধারিত সময়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতেই হবে। চিরঞ্জীব ও চিরন্তন কেবল মাত্র রাব্বুল আলামিন আল্লাহ।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেন, كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ

Advertisement

অর্থ: ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কেয়ামতের দিন তোমাদের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়’। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)

এখন আমরা জানার চেষ্ট করবো মৃতের পক্ষ থেকে কাজা রোজা-নামাজ আদায় করা যাবে কি?

মৃতের আত্মায় সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে নফল রোজা রাখা যেতে পারে। নফল নামাজ বা কোরআন তেলাওয়াত করেও মৃতের কাছে সওয়াব পৌঁছানোর জন্য দোয়া করা যায়। এতে যে রোজা রাখবে, নামাজ পড়বে বা তেলাওয়াত করবে, সে যেমন সওয়াব লাভ করবে, মৃত ব্যক্তির কাছেও মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা সওয়াব পৌঁছে দেবেন বলে আশা করা যায়।

তবে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাজা রোজা রাখা বা কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম নেই। রোজা বা নামাজের কাজা আদায় করার আগেই যদি কারো মৃত্যু হয়ে যায়, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয় স্বজনের জানা থাকে, তাহলে তারা তার পক্ষ থেকে নামাজ পড়ে বা রোজা রেখে তার কাজা আদায় করার সুযোগ থাকে না।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে (রা.) অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখা বা নামাজ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, لاَ يَصُومُ أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ، وَلاَ يُصَلِّي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ

অর্থ: ‘কেউ অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না এবং অন্যের পক্ষ থেকে নামাজ পড়বে না’। (মুআত্তা ইমাম মালেক: ৯৪)

মৃতের কাজা রোজা থাকলে সেজন্য ফিদয়া আদায় করতে হবে। প্রতিটি রোজার জন্য কোনো দরিদ্রকে ২ বেলা খাবার বা তার মূল্য দান করে দিতে হবে।

মৃতের কাছে সওয়াব পৌঁছানোর ২টি সুন্নত পদ্ধতি

মৃতের আত্মায় সওয়াব পৌছানো বা তার উপকারে আসার সুন্নত ২টি পদ্ধতি হলো মৃতের জন্য দোয়া করা এবং সদকা করা। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিদের থেকে বহু সূত্রে মৃতের জন্য এ ২টি আমলের কথা বর্ণিত রয়েছে।

কোরআনে পূর্ববর্তী মুসলমানদের জন্য পরবর্তী মুসলমানদের ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَ الَّذِیْنَ جَآءُوْ مِنْۢ بَعْدِهِمْ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ

অর্থ: ‘যারা তাদের (অর্থাৎ মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে। তারা বলে, হে আমাদের রব! ক্ষমা করুন আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে’। (সূরা: হাশর, আয়াত: ১০)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, সাদ ইবনে উবাদার (রা.) অনুপস্থিতিতে তার মা ইন্তেকাল করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার অনুপস্থিতিতে আমার মা মারা গেছেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, তবে কি তার কোনো উপকারে আসবে? নবীজি (সা.) বললেন, হ্যাঁ। সাদ (রা.) বললেন, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার ‘মিখরাফ’ নামের বাগানটি আমার মায়ের জন্য সদকা করে দিলাম। (সহিহ বুখারি: ২৭৫৬)

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!