ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

তারাবিহ নামাজের বিধান ও ফজিলত

নিলুফার ইয়াসমিন রানি
প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ১১ মার্চ ২০২৪
তারাবিহ নামাজের বিধান ও ফজিলত
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আরবি ‘تَرَاوِيْحِ তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। তারাবি নামাজ পড়াকালে প্রতি ৪ রাকাত পরপর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবিহ’। দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘবের জন্য প্রতি ৪ রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম করে দোয়া ও তসবিহ পাঠ করতে হয় বলে এ নামাজকে সালাতুত তারাবিহ বা তারাবিহ নামাজ বলা হয়। ফকিহরা তারাবিহ’র নামাজকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) তারাবির নামাজে অংশ নিতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জামাতে অংশ নেননি। তবে তিনি ঘরে তারাবির সময় নামাজ আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবির জামাতে অংশ না নিলেও উম্মতকে তারাবির প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের পাপ মার্জনা করা হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২২০৫)

হাদিসে আরো বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখেন, তারাবিহ নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তার জীবনের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (মিশকাত, হাদিস, ১৮৬২)

Advertisement

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে এবং তারাবিহ আদায় করবে, সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী ও শহিদদের কাতারভুক্ত বলে গণ্য হবে’। (সহি ইবনে হিব্বান)

তারাবি নামাজে কোরআন খতম করার নিয়ম রয়েছে। যদিও রমজানে তারাবির নামাজের মর্যাদাবিষয়ক হাদিসে কোরআন খতমের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ নেই। তবে অন্য হাদিস ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমল দ্বারা তারাবির নামাজে কোরআন খতমের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

তা এভাবে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানে অধিক পরিমাণ কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং অন্যদের কোরআন তেলাওয়াত করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রমজানের প্রতি রাতে জিবরাঈল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কোরআন শোনাতেন। (সহিহ বুখারি) এসব হাদিসে অন্যকে কোরআন শোনানো এবং তা শোনার তাগিদ পাওয়া যায়।

কোনো সন্দেহ নেই, খতম তারাবি মর্যাদার বিষয়। তবে কারো কোনো অপারগতা থাকলেও তা বিবেচনা করতে হবে। তাই কেউ কোনো কারণে খতম তারাবি না পড়লে তাকে গালমন্দ করা যাবে না। কেননা যে আমল সরাসরি কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়, তার জন্য কারো মন্দ ধারণা পোষণ করা ও বাজে মন্তব্য করা অনুচিত।

ইয়া আল্লাহ! সব মুসলিম উম্মাহকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!