কোরআনে কারিমে আল্লাহ বলেন, ‘পবিত্র ঐ সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন। এর চারপাশ আমি বরকতময় করেছি, তাঁকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য, তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ১)
নবীজিকে এ সফরে জান্নাত-জাহান্নামের ভ্রমণও করানো হয়। নবীজি বলেন, জান্নাতের প্রাসাদগুলো মুক্তার তৈরি আর এর মাটি হলো মেশকের। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৭৫১৭)
.png)
এ সফরে নবীজি একদল লোককে দেখেন, তাদের নখগুলো তামার। নিজেদের নখ দিয়ে নিজের গাল ও বুকে আঁচড় কাটছে তারা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, জিবরাঈল- এরা কারা? উত্তরে বললেন, এরা ঐ সমস্ত লোক, যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের সম্ভ্রমে আঘাত হানত। অর্থাৎ গিবত করত ও মানুষকে লাঞ্ছিত করত। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর-১৩৩৪০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর-৪৮৭৮)
এ সফরে মুসা (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.)-এর শারীরিক গড়নেরও বিবরণ দেন নবীজি। তিনি বলেন, আমি ইবরাহীমের আকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৩৩৯৪)
রাসুল (সা.) এ সফরে দেখেন, একদল লোকের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। তিনি জানতে চাইলেন, এরা কারা? জিবরাঈল বললেন, এরা বক্তৃতা করত, তবে সেই অনুযায়ী নিজেরা আমল করত না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর-১২২১১)
নবীজি বলেন, জাহান্নামের মধ্যে ঐ নারীকেও দেখতে পেলাম, যে একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর বিড়ালটিকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি। বিড়ালটি যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারত। শেষ পর্যন্ত এটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর-৯০৪)
রাসুল (সা.) বলেন, এমন এক দল নারীর কাছে এলাম, সাপ যাদের স্তনে দংশন করছে। আমি জানতে চাইলাম, এদের কী হয়েছে? উত্তরে বলা হয়, এসব নারী তাদের সন্তানদের দুধ পান করতে বাধা দিত। (মুসতাদরিকে হাকিম, হাদিস নম্বর-২৮৩৭)
বর্ণিত হাদিসে আরো বলা হয়, চিত হয়ে শোয়া এক ব্যক্তির কাছে গেলাম। এরপর দেখলাম এক ব্যক্তি লোহার আঁকড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর সে একদিকে এসে এর দ্বারা তার কশ থেকে মাথার পেছনের দিক পর্যন্ত এবং একইভাবে নাকের ছিদ্র থেকে মাথার পেছনের দিক পর্যন্ত, অনুরূপভাবে চোখ থেকে মাথার পেছন পর্যন্ত চিরে ফেলছে। এরপর লোকটি শোয়া ব্যক্তির অপর দিকে যেয়ে প্রথম দিকের সঙ্গে যেরূপ কাজ করেছে অনুরূপভাবে অন্য দিকের সঙ্গেও করছে। ঐদিক থেকে অবসর হতে না হতেই প্রথম দিক আগের মতো ভালো হয়ে যাচ্ছে। আবার প্রথমবারের মতো আচরণ করছে। ...সে হলো ঐ ব্যক্তি যে সকালে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে এমন মিথ্যা বলে, যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর-৭০৪৭)
রাসুল (সা.) আরো বলেন, চলতে চলতে চুলার মতো একটি গর্তের কাছে পৌঁছলাম। সেখানে শোরগোলসহ বিভিন্ন শব্দ ছিল। তাতে উঁকি মেরে দেখলাম, সেখানে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী-পুরুষ আছে। নিচ থেকে নির্গত আগুনের লেলিহান শিখা তাদের স্পর্শ করছে। যখনই লেলিহান শিখা তাদের স্পর্শ করছে, তখনই চিৎকার করে উঠছে তারা। ...তারা ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী। (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর-৭০৪৭)
উক্ত হাদিসে আরো বর্ণিত হয়েছে, চলতে চলতে একটি নদীর কাছে পৌঁছলাম। এটি ছিল রক্তের মতো লাল। সেই নদীতে এক ব্যক্তিকে সাঁতার কাটতে দেখলাম। নদীর তীরে অন্য এক ব্যক্তি আছে এবং সে অনেক পাথর একত্র করে রেখেছে। আর ঐ সাঁতার কাটা ব্যক্তি বেশ কিছুক্ষণ সাঁতার কাটে সেই ব্যক্তির কাছে ফিরে আসছে, যে পাথর একত্র করে রেখেছে। সে সেখানে এসে তার সামনে মুখ খুলে দিচ্ছে এবং ঐ ব্যক্তি তার মুখে একটি পাথর ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এরপর সে চলে গিয়ে আবার সাঁতার কাটছে এবং পুনরায় তার কাছে ফিরে আসছে। আর যখনই ফিরে আসছে তখনই ঐ ব্যক্তি তার মুখে পাথর ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ... সে হলো সুদখোর। (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর-৭০৪৭)