রিমান্ডে নেহার বলা তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি পার্টিতে নতুন মুখের উপস্থিতি রাখতেন ডিজে নেহা। তাদের অধিকাংশ ছিল বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুন্দরী তরুণী। এসব তরুণীকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করতেন ডিজে নেহা। আর তরুণীদের খদ্দের থাকতো ধনাঢ্য ব্যক্তিরা।
তারা আরো জানান, তার হয়ে তরুণ-তরুণীদের একটি চক্রও কাজ করতো। তাদের শনাক্ত করতে চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে সহযোগীদের নাম কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন নেহা।
.png)
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বেপরোয়া চক্রটির লাগাম টানতে অন্যদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে কোনো আয় না থাকা সত্ত্বেও ডিজে নেহা নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। ধনী পরিবারের সন্তানরা সিসা পার্টি, মদ পার্টি ও অশ্লীল নাচের আয়োজন করতে চাইলে তরুণীদের জন্য নেহার দ্বারস্থ হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব খোঁজ পেয়েছে।
জানা গেছে, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান নেহার চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ রয়েছে। দামি পোশাক ও প্রসাধনীতে নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করাই তার প্রধান হাতিয়ার ছিল। পরিবার ও স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পার্টি আয়োজন করে ধনী পরিবারের সন্তানদের দাওয়াত দিয়ে অবাধে মেলামেশার সুযোগ করে দিতেন এই ডিজে গার্ল।
শুধু তাই নয়, ঢাকার বাইরে তরুণ-তরুণীদের একান্তে মিলিত হওয়ার জন্য আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টের সঙ্গে চুক্তি করতেন এই ডিজে নেহা। পার্টিতে মাদক সরবরাহের কাজও নির্বিঘ্নে করতেন তিনি।
উল্লেখ্য, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়। নিহতের বাবা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করেন। এরমধ্যে নেহা, রায়হান, তাফসির ও শাফায়েত জামিল গ্রেফতার হয়েছেন। আর প্রধান আসামি আরাফাত মাদকের বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। আর বৃহস্পতিবার ডিজে নেহাকে গ্রেফতার করার পর শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।