দৈনিক কালের কণ্ঠ এদিন ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করুন; ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা’ শিরোনামে সম্পাদকীয় লিখেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, মূল্যস্ফীতির চাপে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বিক্রি হ্রাস, সুদের উচ্চহার, শ্রম অসন্তোষ, পরিবহন ও কারিগরি সমস্যা, ডলার সংকটে কাঁচামালের ঘাটতি, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও আকস্মিক বন্যার বিরূপ প্রভাব ব্যবসায়ে উদ্যোগ মোকাবিলা করছে। খুচরা বিক্রিতে মন্দা চলছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বৃদ্ধি করায় ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।’
সম্পাদকীয়টি পড়ে বিশেষজ্ঞরা মত দেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভুল নীতির কারণে গত ৩/৪ বছরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে ধারণা করা যায়।
.png)
অতি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসা ও বাণিজ্যে মন্দা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মূল্যস্ফীতি কমাতে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মত দেন তারা।
মঙ্গলবার আরেকটি পাঠকপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইনকিলাব লিখেছে- ‘অভ্যুত্থান বা বিপ্লব পরবর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিবিধ প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও কার্যক্ষম করার সঙ্গে জনপ্রত্যাশা পূরণ করা তার অপরিহার্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হয়ে পড়ে। এ জন্য সবদিক দিয়ে চৌকস, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠিত হওয়া উচিত। অনেকের মতে, উপদেষ্টামণ্ডলীর একাংশের গণআন্দোলন বা অভ্যুত্থানে কোন ভূমিকা ও অংশগ্রহণ ছিল না। তদুপরি কারো কারো বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের পক্ষে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের সিদ্ধান্ত ও কর্ম ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারকে তার ৩ (তিন) মাসের কার্যক্রমের হিসাবনিকাশ করতে হবে। ৩ (তিন) মাসে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।’ ‘উপদেষ্টাদের কাজের হিসাব নিতে হবে’ শিরোনামে উপরিউক্ত অংশ লিখেছে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় বিভাগ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উপদেষ্টাদের পারফরমেন্সের মূল্যায়ন খুবই জরুরি। তাদের পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ অথবা দফতর পুনঃবণ্টনের বিষয়টি বিবেচানায় নেয়া যেতে পারে।
দৈনিক সময়ের আলো সম্পাদকীয়র শিরোনাম করেছে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে; টাকা দিতে পারছে না ১১ ব্যাংক’। এতে অন্তত এক ডজন ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আস্থাহীনতার মধ্য দিয়ে তারল্য সংকটে পড়ার বিষয়টি চিত্রিত হয়েছে। এর মধ্যে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের কব্জায় যে ব্যাংকগুলো ছিল সেগুলো ছাড়াও অন্তত ১১টি ব্যাংক রয়েছে। নিজের জমানো টাকা তুলতে গেলেও গ্রাহকদের এসব ব্যাংক থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
এ সম্পাদকীয় সম্পর্কে বিজ্ঞজনদের মন্তব্য হলো- সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো কর্তৃক নিজস্ব পন্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর বা সংকট দূর করতে বিভিন্ন পন্থায় ঋণ আদায় বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ বা নতুন ঋণ দেওয়া কমিয়ে ডিপোজিট বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার পদক্ষেপের পাশাপাশি আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুদুরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদকীয় পাতায় দেখা যায় ‘দরকার কৃষি মার্কেট; থামবে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য’ শিরোনামের লেখাটি। এটিতে উল্লেখ করা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাজার পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিলোভী মনোভাব। উৎপাদকের কাছ থেকে কমদামে পণ্য কিনে ৪/৫ গুণ বেশি দরে বিক্রি করা হয়। ভ্যানে করে অথবা ফুটপাতে যারা পণ্য বিক্রি করেন, তাদেরও চাঁদাবাজদের সন্তুষ্ট করেই ব্যবসা চালাতে হয়।’
এর আলোকে বলা যায়- রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আদলে দেশের বিভিন্ন স্থানে নূন্যতম ৫০০ মার্কেট স্থাপন করা হলে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং পণ্য সহজলভ্য হবে। দেশে ব্যাপক হারে কৃষি মার্কেট স্থাপনের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম, গাজীপুর, খুলনা, সিলেট ইত্যাদি মহানগরে সহজে কৃষিপণ্য পরিবহনের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।