ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কর্মসংস্থানের আশা প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কর্মসংস্থানের আশা প্রতিমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়লেও সংঘাত শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং পুনর্বাসনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নুরুল হক নুর বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসও আগের তুলনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রিয়াদে হামলার পর দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যেসব প্রবাসী কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের সমস্যার সমাধানে আলোচনা হয়েছে। তবে সৌদি আরব নিজেরাই যখন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত সময় নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

যুদ্ধে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। দেশটি সংকটের মধ্যে থাকায় শুধু সহায়তা চাওয়ার পরিবর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি জানান, যুদ্ধে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তির আওতায় কিছু কোম্পানি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তুলনামূলক কম হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সহায়তা হিসেবে নিহতদের পরিবারকে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের যাত্রার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৭৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। একক দেশ হিসেবে প্রায় অর্ধেক কর্মী সৌদি আরবে যেতেন। যুদ্ধের কারণে গত সাত মাসে বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে বর্তমানে আবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী বিদেশে যাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, যুদ্ধের কারণে একদিকে কিছু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে সংঘাত শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠন কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হবে। দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় সেখানে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানেও সরকার কাজ করছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে সাফল্য এসেছে। দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অন্য দেশে চাকরির সুযোগ তৈরিতেও সহায়তা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ায় শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে প্রায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় যেসব দেশে কর্মী পাঠানো হয়, সেখানেও তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও সংঘাত বাড়লে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন মেনে চলার আহ্বান জানান নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধসংক্রান্ত ভিডিও, অডিও, ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের এসব বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!