‘২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’: ইসমাইল জবিউল্লাহ
‘এখন থেকে আর ব্রেইন ড্রেইন নয়, আমরা চাই ব্রেইন ইন’—মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের দেশে বিনিয়োগ ও ফিরে এসে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেন, বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ এগিয়ে চলছে। ধারাবাহিক নীতি এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিলের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
.png)
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।
উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নতুন যাত্রায় বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী, প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সফল উদ্যোক্তা ও নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়াভিত্তিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের দেশের নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে শ্রমিকের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরাও রয়েছেন।
প্রবাসীদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রবাসীরা দেশে ফিরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত। তাদের শ্রম ও পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসীদের কল্যাণে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এ কার্ডের পাইলট কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি কমিয়ে সহজ, নিরাপদ ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রবাসী কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
প্রবাসীদের জন্য পৃথক আবাসন ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার কাজ চলছে। তরুণদের জন্য দেশেই বিশ্বমানের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রবাসীদের বিনিয়োগ সহজ করা হবে।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিশন রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, মেধা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মতবিনিময় সভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শিক্ষাবিদ, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, নারী উদ্যোক্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা সহজীকরণসহ প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।
সভায় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তা, মালয়েশিয়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।