সংকট মোকাবিলায় সক্ষম রাষ্ট্রপতি চায় বিএনপি
দেশের পরিবর্তিত ও বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পরবর্তী তথা ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতের ওয়ান-ইলেভেনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক জটিলতা এবং যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবার চরম সতর্ক অবস্থানে হাইকমান্ড। কোনো আকস্মিক বা অরাজনৈতিক চমক নয়, বরং দলটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো—দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ত্যাগী ভূমিকা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত ব্যক্তিত্বকেই বঙ্গভবনের জন্য মনোনীত করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার আইনি জটিলতা নিরসনে প্রার্থীর গভীর সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ হওয়াকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং তিনি সংসদ সদস্যদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। যেহেতু বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, তাই এটি নিশ্চিত যে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নিয়মানুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রে অধিকাংশ সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেন না, ফলে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর বিজয় কেবল আনুষ্ঠানিকতামাত্র। বিএনপি যাকে বেছে নেবে, তিনিই প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থন পেয়ে সরাসরি বঙ্গভবনের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি প্রধানত আনুষ্ঠানিক হলেও সংকটকালীন মুহূর্তে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সংবিধানের মূল কাঠামো অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন এবং দেশের তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ দানসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী তাকে কাজ করতে হয়, কিন্তু নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে বা কোনো সাংবিধানিক সংকট দেখা দিলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নতুন সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেওয়া কিংবা জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো স্পর্শকাতর জাতীয় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা ও দৃঢ় মনোবল গোটা দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
বিএনপি হাইকমান্ড মনে করে, আগামী দিনের জাতীয় নির্বাচন এবং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য ও দূরদর্শী রাষ্ট্রপতি থাকা অপরিহার্য, যিনি যেকোনো সংকটে সংবিধানের অক্ষুণ্ণতা রক্ষা করতে পারবেন।