পিএসসির এই দুই উপপরিচালক হলেন- মো. আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলম। আর সহকারী পরিচালক হলেন- মো. আলমগীর কবির।
পিএসসির এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদনের জন্য তিন বছর পদোন্নতি আটকে ছিল। এদের মধ্যে আবার দুজনের রয়েছে কোচিং ব্যবসা। বেশি বেশি তদবির করার অভিযোগে তিনজনের একজনকে ঢাকা থেকে শাস্তিস্বরূপ বদলিও করা হয়।
.png)
এ ছাড়া কর্মচারী মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে ফৌজদারি ও বিভাগীয় মামলাও হয়। তবে পরে অভিযোগ থেকে নাম কাটিয়ে আদালতের আদেশে পিএসসিতে ফেরেন।
আর বহুল আলোচিত পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী তো নিয়োগের সময় ঠিকানা জালিয়াতি করেছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে হারিয়েছেন চাকরিও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিএসসির উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ঢাকার মালিবাগের জ্যোতি কমার্শিয়াল চাকরির কোচিং সেন্টারের পরিচালক আবু জাফর। কোচিং সেন্টারটি তার স্ত্রী জ্যোতির নামে।
পিএসসির প্রশাসন শাখা থেকে জানা গেছে, কয়েক বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন আবু জাফর। তিনি কোচিং সেন্টারে যুক্ত আর নানা নেতিবাচক আলোচনায় ছিলেন বলে তিন বছর তার পদোন্নতি আটকে ছিল। গোয়েন্দা প্রতিবেদন নেতিবাচক আসার কারণে পদোন্নতি আটকে ছিল বলে জানায় পিএসসির প্রশাসন শাখা।
এই দুজনের বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, এদের দুজনের চাকরির প্রস্তুতির কোচিং ব্যবসা রয়েছে। এটা এবার অভিযোগের পর জানতে পেরেছি। আগে জানতে পারলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া যেত।
জানা গেছে, পিএসসির ঢাকা অফিসে কর্মরত ছিলেন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বিভিন্ন নিয়োগের বিষয়ে পিএসসি সদস্যদের কাছে নিয়মিত তদবির করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী পিএসসিতে চাকরি নিয়েছিলেন ভুয়া ঠিকানায়। এ ছাড়া ২০১৪ সালে নন-ক্যাডারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করে পিএসসি।
পিএসসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নন-ক্যাডারে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার’ পদের লিখিত পরীক্ষা ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে হলের বাইরে থেকে অবৈধভাবে সরবরাহ করা সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরসহ চারটি লিখিত উত্তরপত্র হাতেনাতে ধরা হয়। ঐ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ আইনের ধারায় মামলা করা হয়। ঐ মামলার তদন্তে সৈয়দ আবেদ আলীর সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য-প্রমাণ মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া সৈয়দ আবেদ আলী বিরুদ্ধে বহু বেআইনি কর্মের দুর্নাম আছে। তিনি অভ্যাসগত অপকর্মে জড়িত বলেও পিএসসির ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।