ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

সবজি-ডিমে স্বস্তি, চাল-মাছ ও মুরগির দাম বাড়ছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৩১, ৮ জানুয়ারি ২০২৫
সবজি-ডিমে স্বস্তি, চাল-মাছ ও মুরগির দাম বাড়ছেই
ফাইল ফটো

শীতকালীন সবজির পসরা সেজে উঠেছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। সরবরাহ বাড়ায় সবজির দামেও ফিরেছে স্বস্তি। একই সঙ্গে দাম কমেছে ডিমেরও। তবে বাজারে ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলছে চাল, মাছ ও মুরগির চড়া দাম। মুরগির কেজি ২০০ টাকার নিচে নামছে না। দফায় দফায় বাড়ছে মাছ ও চালের দাম।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া ও ফার্মগেটসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দ্রব্যমূল্যের এ চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। জোগান ভালো থাকায় দিনদিন দামও কমছে। তবে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে বেচাকেনা কম।

Advertisement

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মুলা ও শালগম ১৫ থেকে ২০, শিম ২০ থেকে ৪০, গাজর ৫০ থেকে ৫৫, চিচিঙ্গা ৩৫ থেকে ৪০, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। প্রতি কেজি টমেটো মানভেদে ৫০ থেকে ৭০, বরবটি ৫০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় আকারের প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। লাউয়ের পিস কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

বাজার ভরে গেছে নতুন আলুতে। ফলে দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। তবে পুরোনো আলুর কেজি ৫০ টাকার বেশি। প্রতি কেজি দেশি নতুন পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ ও পুরোনো পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে কেনা যাচ্ছে। তবে কিছুটা বেড়ে দেশি রসুনের কেজি ২৩০ থেকে ২৩৫ এবং আমদানি করা রসুন ২২০ থেকে ২২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

ডিমের দামও নেমেছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। তবে মুরগির দাম আগের মতোই চড়া। প্রতি কেজি ব্রয়লার ২০০ থেকে ২১০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দোকানগুলোতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। প্রতি কেজি খাসির মাংস ১০৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা ও ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মিনিকেট ও নাজিরশাইলের। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি করছেন ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। আর নাজিরশাইল বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ৮৬ টাকায়। ১৫ দিন আগেও মিনিকেট চাল ৬৮ থেকে ৭৫ টাকায় এবং নাজিরশাইল ৭০ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই হিসেবে দুই জাতের চালের কেজিতে বেড়েছে যথাক্রমে ৫ থেকে ১০ এবং ৮ থেকে ১০ টাকা।

বিআর-২৮ জাতের চালের কেজি দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। ২ থেকে ৫ টাকা দর বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। এছাড়া এ সময় মোটা চাল (গুটি স্বর্ণা) কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকার মতো। ১৫ দিন আগে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মোটা চাল কিনতে এখন ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা। বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা চালের সরবরাহও দেখা গেছে। মিনিকেট জাতের এ চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৬ থেকে ৭৮ টাকায়।

বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ টাকায়। এছাড়া দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩২০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২০০০ টাকা হারে, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকা ও ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারে পাঙাস মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি কৈ ৮০০, চাষের কৈ ৩৫০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০, বাইম ৮০০, রুই মাছ আকৃতি ভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০, বড় কাতল মাছ ৪৫০, ছোট কাতল ৩৫০, কার্প মাছ  ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০, তেলাপিয়া ২৩০, চিংড়ি ৮০০, মলা মাছ ৩৫০ টাকা এবং শোল মাছ ৯০০ থেকে ১০০ টাকায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!