রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি। আর দেশি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজ কেজি প্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। এছাড়াও মাছ, মাংস, ডিম, রসুন, আদা, আলু, ভোজ্যতেল, চিনি, আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম অনেক দিন ধরেই চড়া। প্রতি কেজি আলুর কেজি ৬০-৬৫ টাকা।
সবজিরে বাজারেও মিলছে না স্বস্তি। বেগুন, কাঁকরোল, করলার দাম সবচেয়ে বেশি। ঢেঁড়শ, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, পটোল, কুমড়া ও পেঁপের দাম ৮০ টাকার নিচে থাকলেও অন্যান্য সবজির দাম ১০০ টাকার উপরে। দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগিরও। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে ১৭০-১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। এখন প্রতি কেজি সোনালী মুরগির দাম ৩২০-৩৪০ টাকা, বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৪৫-১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম প্রতি ডজন ১৩৫-১৪০ টাকা।
.png)
ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ার কারণে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। পেঁয়াজের মজুত বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরাও ভালো মুনাফার আশায় পেঁয়াজ হাতছাড়া না করে ধরে রাখার কৌশল নিয়েছেন। আবার ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কারণে আমদানি হচ্ছে কম। এ অবস্থায় মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ ও বাজারে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি করা না গেলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে পেঁয়াজের দাম।
মরিচচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর মরিচ আবাদের শুরুর দিকে অর্থাৎ এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রচণ্ড খরা ও গরমে মরিচ গাছগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ফলন কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে ভারী বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁচা পণ্যের সরবরাহ কমেছে। এছাড়া ভারত থেকে যে কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে, তার দামও বেশি। এসব কারণে বাজারে মরিচের দাম ক্রমে বাড়ছে।
এদিকে আগামী ২-৩ মাসে খাদ্যের দাম আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক খাদ্য সচিব আবদুল লতিফ মন্ডল। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মূল্যবৃদ্ধি হয়। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যা মূল্যবৃদ্ধির এই প্রবণতাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। ফলে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।