ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

মুরগির দাম কেজিতে বাড়ল ৩০ টাকা, মরিচের ট্রিপল সেঞ্চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৩৭, ১২ জুলাই ২০২৪
মুরগির দাম কেজিতে বাড়ল ৩০ টাকা, মরিচের ট্রিপল সেঞ্চুরি
ফাইল ফটো

দাম তুলনামূলক অনেক কম থাকায় বাজারে গরু-খাসির চেয়ে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেশি ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টির অজুহাতে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। এছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৮০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়তি। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় জিম্মি হয়ে আছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা, বাড্ডা, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সোনালী মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, কক প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, লেয়ার প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় এবং তারও আগের সপ্তাহে ১৭০ কেজিতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে।

Advertisement

এক ক্রেতা বলেন, মুরগির চাহিদা একটু বেশি থাকে। এই সুযোগটাই ব্যবসায়ীরা নিচ্ছেন। সপ্তাহখানেক আগেও মুরগি ছিল ১৭০ টাকায়, কী এমন হলো যে কেজিপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়াতে হলো? এসবের কোনো জবাব ব্যবসায়ীদের কাছে নেই।

মুরগি বিক্রেতারা বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম। যে কারণে দামটাও একটু বেশি। তাছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাংসের চাহিদাটা একটু বেড়ে যায়, বাজারে যদি সেই পরিমাণে সরবরাহ না থাকে, তাহলেই দাম বেড়ে যায়, এখানে আমাদের কিছুই করার থাকে না।

এদিকে, রাজধানীর বাজারগুলোতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৮০ টাকা বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচ নষ্ট হয়। তাই দাম আগের তুলনায় বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চালের দাম। প্রতি কেজি চালে ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এখন মিনিকেট ৭০ থেকে ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৭০ টাকা ৭৫, পাইজাম ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাল বিক্রেতারা জানান, মোকামে প্রতি বস্তা চালে ২০০ টাকা বেড়েছে। এ কারণে বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে।

অন্যদিকে, সবজির বাজারের অস্থিতিশীলতা এখনো কাটেনি বরং সব ধরনের সবজির দাম আরো বেড়েছে। দেশের কয়েকটি এলাকায় বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে সবজির দাম হু হু করে বাড়ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বরবটি ১০০-১২০ টাকা, করলা ১২০-১৪০, কচুরমুখি ১২০-১৬০ টাকা, কাকরোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা ও বেগুন ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কমের মধ্যে রয়েছে শুধু পটল ও পেঁপে, যা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্বস্তি ফেরেনি পেঁয়াজ ও আলুর দামেও। বিভিন্ন বাজারে আজ পেঁয়াজের কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে।

ফার্মের মুরগির ডিমের দামও কমেনি। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে।

আকারভেদে রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। সীমিত আয়ের মানুষ সাধারণত তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চাষের কই মাছ বেশি কেনেন। মাঝারি আকারের এসব মাছের কেজিও ২৫০ টাকার আশপাশে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!