ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

মঙ্গলবার কোন জিনিসের কত দাম

অর্থনীতি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:২৮, ১৯ মার্চ ২০২৪
মঙ্গলবার কোন জিনিসের কত দাম
ফাইল ফটো

রমজানে গ্রামগঞ্জে কমতে শুরু করেছে সবজিসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম। সামান্য হলেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, মিরপুর, রামপুরাসহ বেশ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোতে গত সপ্তাহের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে মিলছে পেঁয়াজ, বেগুন, লেবু, শসা, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংস।

Advertisement

প্রতি কেজি বেগুনের দাম এখন ৪০-৬০ টাকায় নেমেছে, যা রোজার শুরুতে ১০০ টাকায় উঠেছিল। একইভাবে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, যা রোজার শুরুর দিকে ১০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শসা ও ক্ষীরার দামও কমেছে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায় মিলছে সালাদের এ দুই উপকরণ।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ৩-৪ ধরনের বেগুন বিক্রি হচ্ছে। গোল তালবেগুন বাজারে কেউ বিক্রি করছেন ৪০-৫০ টাকা কেজি, কেউ আবার সবচেয়ে ভালো মানের লম্বা বেগুন বিক্রি করছেন ৬০ টাকায়। আবার বাজারের বাইরে ও পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে যারা বেগুন বিক্রি করছেন তাদের ২০ টাকা কেজিতেও বেচতে দেখা গেছে।

সেগুনবাগিচা বাজারে বিক্রেতা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আগের থেকে বেগুনের দাম অনেক কমেছে। আর চাহিদাও রোজার শুরুর তুলনায় এখন অনেক কম। সেই তুলনায় লেবু ও শসার দাম খুব বেশি কমেনি। আর কিছুদিন গেলে দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে খুচরা বাজারে দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা ও ক্ষীরা ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ শসা-ক্ষীরার দাম রোজার শুরুতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

এছাড়া ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি ও দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামও কমছে। গত সপ্তাহে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে নেমেছে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায়।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পবিত্র রমজান মাসে বেশি দামে বিক্রির আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। এরমধ্যে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা এসেছে। ফলে তারা সেই পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন। আবার কৃষকরাও নতুন পেঁয়াজ বাজারে তুলতে শুরু করেছেন। ফলে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার পাবনায় প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। দাম কমে যাওয়ায় বহু কৃষক পেঁয়াজ বিক্রি না করে বাড়িতে ফিরে গেছেন। এক সপ্তাহ আগে ঐ এলাকায় পেঁয়াজের মণ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা ছিল।

এ অবস্থায় ঢাকার বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দাম কিছু কমে আসায় ক্রেতারা খুশি মনে কিনছেন। কেউ ১-২ কেজি, কেউ আবার কিনছেন ৫ কেজি।

সম্প্রতি, দেশি পেঁয়াজ, ছোলা, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংসসহ ২৯ নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন দাম অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে ছোলার দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ৯৩ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৯৮ টাকা দরে বিক্রি করা যাবে। মসুর ডালের খুচরা পর্যায়ে দাম হবে ১৩০ টাকা ৫০ পয়সা এবং মোটা দানার মসুর বিক্রি হবে ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায়। খেসারি ডালের খুচরায় সর্বোচ্চ দাম হবে ৯৩ টাকা। এছাড়া মাসকালাই ১৬৬ টাকা ৫০ পয়সা এবং মুগডাল খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ১৬৫ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতি কেজি গরুর মাংসের সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৪ টাকা। ছাগলের মাংসের দাম ১ হাজার ৩ টাকা এবং মাছের মধ্যে চাষের পাঙাশের খুচরা দাম ১৮১ টাকা ও কাতলা মাছের দাম সর্বোচ্চ ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৬২ টাকা দরে কিনতে পারবেন ক্রেতারা। প্রতি পিস ডিমের দাম হবে সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ টাকা।

প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা এবং রসুন ১২০ টাকা ও আদা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হবে। এছাড়া শুকনো মরিচের সর্বোচ্চ দাম হবে ৩২৭ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৬০ টাকায় খুচরা বাজারে কিনতে পারবেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৩০ টাকা, প্রতিকেজি বেগুন ও শিম ৫০ টাকা ও আলু সাড়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি টমেটো ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৪ টাকা খুচরা মূল্য বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি জাহেদী খেজুর ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সাগর কলার হালি খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া চিড়ার খুচরা দাম ৬০ টাকা, বেসন ১২১ টাকা বেঁধে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!