এ প্রকল্প থেকে ‘জেরক্স ইন্ডিয়া লিমিটেড’ নামক ভারতীয় প্রতিষ্ঠানই হাতিয়ে নেয় ১১২ কোটি টাকার বেশি। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংস্থাটি। এ প্রেক্ষাপটে রিট করা হলে শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ নির্দেশ দেন।
দুদককে অনুসন্ধান করে ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবু জাফর শেখ মানিক। দুদকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
.png)
রিটে উল্লেখ করা হয়, এনএইচডি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো একটি প্রকল্প চালু করে। প্রকল্পের জন্য ৫৪৫ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দেয়। নিয়োগকৃত জনবলকে দাফতরিক বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য উপজেলা ও জেলা পরিসংখ্যান অফিসগুলোতে সংযুক্ত করে।
২০২২ সালের জুন মাসে তাদের ‘জেরক্স ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড’র অধীনে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ঐ প্রতিষ্ঠান ১৪টি জেলার তথ্য আংশিক সংশোধন ও ৫০টি জেলার ডাটা অসমাপ্ত রেখে প্রকল্পের ১১২ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৬২২ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ বাবদ ছিল ৬৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ সরকার বরাদ্দ দিয়েছিল ৪০ কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এ প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া ৫৪৫ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে মাসিক বেতন-ভাতাদি উপরোক্ত কর্মকর্তারা প্রদান না করে এবং প্রজেক্টের টিপিপির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের রেভিনিউ খাতে নিয়োগ না দিয়ে সরকারি অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ভুক্তভোগী ৭৩ জন প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে আবেদন করেন।
সংঘটিত দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা চেয়ে দুদকেও আবেদন করেন। কিন্তু ঐ আবেদনে দুদক সাড়া দেয়নি। এ প্রেক্ষাপটে গত ১৩ মে রিট করেন আবেদনকারীরা।