তারা হলেন- চকবাজারের শেখর আহম্মেদ শুভ ও একই এলাকার মিরাজ (২৪)। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন অপর আসামি শিহাব হোসেন সায়েম (২৪)।
সোমবার আদালতের চকবাজার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
.png)
এর মধ্যে দুইদিনের রিমান্ড শেষে রোববার শেখর আহম্মেদ শুভকে আদালতে উপস্থিত করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবির। এর আগে ৩ নভেম্বর দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন অপর আসামি মিরাজ।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ১ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর চকবাজারের মোগলটুলির ৯২ নম্বর বশির ম্যানসনের সামনের সড়কে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী যুবকের নাম আনিসুল ইসলাম। তিনি হাজী সেলিম টাওয়ারের সুবাহান স্টোরের কর্মচারী। ঐদিন দোকানের মালিক সোবাহান ঐ কর্মচারীর কাছে ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখায় জমা দিতে পাঠিয়েছিলেন।
গত বুধবার দোকান মালিক কর্মচারী আনিসুলকে ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্যাংকে পাঠান। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা হয়ে গেলেও কর্মচারীর কোনো হদিস পাওয়া যায় না। ফোন দিলেও ধরে না। এক পর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে কর্মচারী আনিস রক্তাক্ত অবস্থায় অফিসে আসে। তখন ভুক্তভোগী আনিসুল ইসলাম দোকান মালিককে জানায়, সে দোকান থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ পেছন থেকে ৪-৫ জন লোক তাকে টেনে ধরে কিলঘুষি মারতে থাকে। এরপর আনিসুলকে খুন করার হুমকি দিয়ে ছিনতাইকারীরা একটি নির্মানাধীণ ভবনে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এ সময় টাকার ব্যাগ না দেওয়ায় তার মাথায় পিস্তল (অস্ত্র) ঠেকায় কয়েকজন। এক পর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে টাকার ব্যাগ ছেড়ে দেয় আনিস। পরে তাকে চোখ বেঁধে অন্য জায়গায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দোকান মালিক আব্দুস সুবাহান বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। এরপর টাকা উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক টিম। পুলিশের একটি সূত্র জানায়- অভিযান শুরুর পর প্রযুক্তির সহায়তায় তারা দেখতে পান অভিযুক্তরা টাকার ব্যাগ নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে ট্রেনযোগে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের পুলিশ এবং রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় টাকা ছিনতাইকারী মিরাজ ও সায়েমকে আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে আরেক ছিনতাইকারী শেখর আহম্মেদ শুভকে গ্রেফতার করা করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ৭-১০ জনের একটি চক্র কাজ করেছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।