বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ভিত্তিক এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের বিদেশে সম্পদের বিষয়ে সংবাদ, বিবৃতি, মতামত ও অনলাইনে কোনো রিপোর্ট ও ভিডিও প্রচারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনের শুনানির বিষয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আদালতে এস আলম গ্রুপের কৌসুলি ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন বলেন, এস আলমের বিষয়ে একটা অভিযোগ এসেছে। যেটা বিরোধপূর্ণ। এস আলম নিয়ে একটা মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে।
.png)
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, রায় পক্ষে গেলে ঐতিহাসিক, বিপক্ষে গেলে ফরমায়েশি। কোনো রায় বা আদেশ দিলে একেক পক্ষে একেক রকম ব্যাখা দিয়ে থাকে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। এ কারণে আইনজীবীদের লক্ষ্য রাখা উচিত যেন আদালতের মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকে।
গত ৪ আগস্ট একটি দৈনিক পত্রিকায় এস আলমের আলাদিনের চেরাগ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থ স্থানান্তর নিয়ে এস আলম গ্রুপের মালিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ঐ আদেশের বিরুদ্ধে এস আলম ও তার স্ত্রী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। ২৩ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সব পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দেন এবং আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করে দেন।
দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম বলেন, গণমাধ্যমের রিপোর্ট আমাদের অন্যতম সোর্স। কমপক্ষে ৫০ ভাগ মিডিয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা অনুসন্ধান করে থাকি। মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে আমরা এই তথ্য-উপাত্ত পাবো না।
এ পর্যায়ে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, চেম্বার আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশের পর তো কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। বিচারকে প্রভাবিত করে এমন কোনো প্রতিবেদনও দেখছি না। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার দেওয়ার মত কোনো প্রাথমিক উপাদানও দেখতে পাচ্ছি না। কেউ যা ইচ্ছে তাই লিখলে সুনির্দিষ্ট আইনে প্রতিকারের বিধান রয়েছে।
শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি নথিভুক্তের আদেশ দেন। তবে আবেদনকারী চাইলে ৮ জানুয়ারি লিভ টু আপিলের সঙ্গে এ আবেদন শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পেশ করার সুযোগ থাকবে।