রোববার আসামিদের আদালতে উপস্থিত করে হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাতদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই নাজমুল হাসান। অপরদিকে আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকী আল ফারাবী তাদের জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. মীর মোয়াজ্জেম হোসেন প্রান্ত (২৫) ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬)। এর মধ্যে মীর মোয়াজ্জেম ছিলেন নির্মাণাধীন ঐ ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার। তার নির্দেশে আকাশকে হত্যা করে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
.png)
হত্যার ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন গ্রেফতার অপর আসামি মো. ফিরোজ (১৮)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকী আল ফারাবী।
এর আগে, শনিবার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার অপর দুই আসামি জহিরুল ইসলাম বাবু ও আব্দুল বারেক বাবুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার সিরাজগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানার টিক্কাপাড়া বরাবো সরকারি প্রাইমারি স্কুলের নির্মাণাধীন ভবনে থাকা নিরাপত্তাকর্মী এবং নির্মাণ শ্রমিকরা ভিকটিম শিশু আকাশকে চোর সন্দেহে আটক করে মারপিট করে। এতে ভিকটিম গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টায় ভিকটিম শিশু আকাশ তার বাসা থেকে বের হয়ে রাতে আর বাসায় ফেরেনি। পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ভিকটিমের ফুফুর মোবাইলে অভিযুক্ত জহিরুল ফোন করে ভিকটিম শিশু আকাশকে বরাবো সরকারি প্রাইমারি স্কুলের নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিয়ে যেতে বলে। ভিকটিমের ফুফু সংবাদ পেয়ে বরাবো সরকারি প্রাইমারি স্কুলের নির্মাণাধীন ভবনে যান এবং সেখানে থেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নসহ আহত অবস্থায় পড়ে থাকা আকাশকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান। ঘটনার কিছুক্ষণ পর ভিকটিম আকাশের সব শরীর ঠান্ডা, নিথর ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপরই আকাশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ফুফুর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকালে নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিক এবং নির্মাণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করা হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জহিরুল ও বারেককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর গ্রেফতার হন অপর তিন আসামি- ফিরোজ, মীর মোয়াজ্জেম ও
মোস্তাফিজুর রহমান।