সোমবার এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত।
মামলাটির অন্য আসামিরা হলেন- পরীক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম ওরফে স্বপন, রাশেদ আহমেদ ওরফে বাবলু, জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ ও রবিউল ইসলাম ওরফে রবি, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা শামসুল হক ওরফে শ্যামল ও আবদুল্লাহ আল জাবের, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিশিয়ান মুক্তারুজ্জামান ওরফে রয়েল, পিয়ন দেলোয়ার হোসেন, কর্মী রবিউল আউয়াল, পারভেজ মিয়া, মিজানুর রহমান মিজান, মোবিন উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান ও সোহেল রানা এবং রূপালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানে আলম ওরফে মিলন।
.png)
গত ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের এসআই শামীম আহমেদ আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। তবে ড. নিখিল রঞ্জন ধর পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর গত ৫ মার্চ আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন নিখিল রঞ্জন ধর। ঐদিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি ব্যাংকে অফিসার (ক্যাশ) পদে এক হাজার ৫১১ জনকে নিয়োগ দিতে ২০২১ সালের ৬ নভেম্বর বিকেলে পরীক্ষা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরীক্ষা সম্পাদনের দায়িত্বে ছিল আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।
এ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হবে- এমন তথ্য ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর রাতে ডিবি পুলিশের কাছে আসে। ডিবি পুলিশের সদস্যরা ছদ্মবেশে পরীক্ষার্থী সেজে ৬ নভেম্বর সকাল সাতটার দিকে প্রশ্নপত্রসহ উত্তর পাওয়ার জন্য চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অগ্রিম টাকা পরিশোধের পর প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা রাইসুল ইসলাম স্বপন ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশী পরীক্ষার্থীকে নিয়ে যান। এরপর পরীক্ষার উত্তরপত্রসহ স্বপনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
২০২১ সালের ৬ নভেম্বর পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের সঙ্গে সকালে পাওয়া প্রশ্ন ও উত্তর হুবহু মিলে গেলে স্বপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপালী ব্যাংকের সাভার শাখার শ্রীনগর থেকে রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জানে আলম মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। মিলনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সরবরাহকারী শামসুল হক শ্যামলকে ধরতে প্রথমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অভিযান চালানো হয়। পরে জানা যায়, শ্যামল ঢাকায় অবস্থান করছেন। এরপর ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আর ১০ নভেম্বর রাতে গ্রেফতার করা হয় সোহেল, খোকন ও জাহিদকে।