ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

ডা. সাবিরা খুনের দুই বছর: রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পিবিআই

মিনহাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৩০ মে ২০২৩
ডা. সাবিরা খুনের দুই বছর: রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পিবিআই
ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপি। ছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালের ৩০ মে রাজধানীর কলাবাগান থেকে গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনায় তার পরিবার কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা করে। ঘটনার দুই বছরেও ডা. সাবিরার খুনের রহস্য উদঘাটন হয়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কর্মকর্তারা আশা করছেন- শিগগিরই চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য তারা উদঘাটন করবেন।

পিবিআই মামলার তদন্ত পাওয়ার পর গত বছর ১৯ এপ্রিল ডা. সাবিরার স্বামী এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদকে শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২৪ এপ্রিল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ গত ৩ মে মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত আগামী ১ জুন প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। 

Advertisement

খুনের কারণ জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, কী কারণে ডা. সাবিরা খুন হয়েছেন, তার কারণ এখনো জানা যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করছেন। তার স্বামীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়। অনেক তথ্য পেয়েছি। আবার অনেক প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর আগে, আমরা সাবিরার ছেলে ও তার ফ্ল্যাটমেট কানিজ সুবর্ণাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছি। অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে দ্রুত তদন্ত শেষ করব এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব।

মামলার বাদী ডা. সাবিরার ফুফাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার বলেন, দুই বছর হয়ে গেলো খুনের কারণ জানা গেল না। পিবিআই বসে নেই। তারা কাজ করছে। আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে। আশা করছি, সাবিরা খুনের মামলার রহস্য উদঘাটন হবে। দোষীরা গ্রেফতার হবেন।

সাবিরার মেয়ে নুসাইবা আনবার তার নানীর সঙ্গে থাকে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। রেজাউল হাসান বলেন, নুসাইবার দেখভাল করছে নানি। নানি এখন মায়ের ভূমিকা পালন করছে। যেন মেয়েটা মন খারাপ না করে থাকে। মায়ের অভাব বুঝতে না পারে। এ কারণে সাবিরার মায়ের মেয়ে হারানোর কষ্ট কিছুটা কমেছে। নুসাইবা না থাকলে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। 

২০২১ সালের ৩০ মে সকালে কলাবাগান প্রথম লেনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের শয়ন কক্ষ থেকে চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান ওরফে লিপির রক্তাক্ত ও দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১ জুন সাবিরার ফুফাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা করেন।

জানা যায়, ডা. সাবিরা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেটিতে তিনটি কক্ষ। একটি কক্ষে সাবিরা, বাকি দুটি কক্ষে দুই তরুণী থাকতেন। সাবিরার পাশের কক্ষে থাকা কানিজ সুবর্ণা মডেলিং করেন। আরেকটি কক্ষে যে তরুণী থাকতেন, তিনি ঘটনার আগেই বাড়ি গিয়ে আর ফেরেননি। ঐ তরুণী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে (বিবিএ) পড়েন। এই দুজনকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ডা. সাবিরার স্বামী এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!