ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

অভিনেত্রী আশার মৃত্যু: মোটরসাইকেল চালক শামীম কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত: ২০:১৫, ৬ জানুয়ারি ২০২১
অভিনেত্রী আশার মৃত্যু: মোটরসাইকেল চালক শামীম কারাগারে
আয়েশা আক্তার আশা। ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় অভিনেত্রী আয়েশা আক্তার আশার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোটরসাইকেল চালক শামীম আহমেদের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়ার আদালত শামীম আহমেদের জামিন আবদেন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

এর আগে আসামি শামীম আহমেদকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দারুসসালাম থানার এসআই সোহান আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

এদিকে এ মামলার এজাহারে আদালতে পৌঁছালে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিগত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে শামীম আহমেদের সঙ্গে আয়শা আক্তার আশার পরিচয়ের সুবাদে তাদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। সেই সম্পর্কের সুবাদে আশাদের বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতো আসামি শামীম। এতে আশার পরিবার শামীমকে অত্যাধিক বিশ্বাস ও স্নেহ করতো। যার কারণে শামীম মাঝেমধ্যে আয়েশাকে তার অফিস এবং মিডিয়ার কাজে আসা-যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করতো। 

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, গত ৪ জানুয়ারি রাত ১১ টার দিকে বনানী অফিস হতে আয়েশা বের হওয়ার সময় তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, 'আমি কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় আসতেছি।' এরপর রাত পৌনে ১১ টার দিকে পুনরায় আশা তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, বাড়ির কাজের ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছে। কাজ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আমি শামীম ভাইয়ের সঙ্গে চলে আসবো। এ সময় শামীম মোবাইলে বলে, আপনার মেয়ে যেভাবে বলে সেভাবে কাজ করেন, তাহলে ভালো হবে। পরবর্তীতে রাত পৌনে দুইটার সময় শামীম ফোন করে জানায়, আশা আর নেই। টেকনিক্যাল মোড়ে একটি অজ্ঞাত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, আসামি শামিম আহাম্মেদ বেপরোয়া দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে দুই ট্রাকের মাঝখান দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় সামনের ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে আয়েশা আক্তার আসামি শামীমের মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ছিটকে পড়ে যায়। এরপর পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাত ট্রাক আশাকে চাপা দিলে মাথা ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্তাক্ত ও জখম হয়। এতে আশা ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার আয়শা আক্তার আশার পিতা মো. আবু কালাম বাদী হয়ে রাজধানীর দারুসসালাম থানায়  সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। এরপর ওই দিন আসামি শামীম আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

উল্লেখ্য, আয়শা আক্তার আশা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!