ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বাড়ির ভিটা ছাড়া সব বিক্রি, তবুও সুস্থ হননি তিন সন্তানের বাবা মিরাজ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৫, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বাড়ির ভিটা ছাড়া সব বিক্রি, তবুও সুস্থ হননি তিন সন্তানের বাবা মিরাজ
লালমোহনে দুর্ঘটনায় পঙ্গু মো. মিরাজের সঙ্গে স্ত্রী রিংকু বেগম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যে মানুষটির হাত ধরে চলত পাঁচ সদস্যের সংসার, যার ঘামে জুটত স্ত্রী-সন্তানদের দুবেলা খাবার, সেই মানুষটিই আজ বিছানায় পড়ে আছেন অসহায় হয়ে। এক সময় ট্রাক চালিয়ে স্বপ্ন বুনতেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। ভাবতেন, কষ্ট করে হলেও সন্তানদের বড় করবেন, তাদের মুখে হাসি ফোটাবেন, দূর করবেন সংসারের অভাব। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার সব স্বপ্ন। শরীরের প্রায় তিনভাগ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী মো. মিরাজ। নিজের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই, নেই পরিবারের ভরণপোষণের সক্ষমতাও। অসুস্থ বাবার দিকে তাকিয়ে থাকা তিন সন্তানের ভবিষ্যৎও যেন ডুবে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। 

ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী এলাকার মো. শফিউল্যাহর ছেলে মো. মিরাজ। এক সময় পরিশ্রম করে উপার্জন করতেন, সেই আয়েই চলত স্ত্রী রিংকু বেগম, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। কিন্তু গত বছর দুইয়েক আগের এক দুর্ঘটনায় পাল্টে গেছে সবকিছু। মিরাজের চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাড়ির ভিটা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবুও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। এখন মিরাজের নিজের কোনো আয় নেই।

যে মানুষটি একসময় পরিবারের সবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন, আজ তার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করতে যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা যেন অসম্ভব এক লড়াই। স্বামীকে সুস্থ করে তোলার আশা আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দুশ্চিন্তায় অসহায় হয়ে পড়েছেন রিংকু বেগম। বড় মেয়ের বিয়ে, ছোট সন্তানদের লেখাপড়া ও আগামী দিনের জীবন- সবকিছু নিয়েই তার ভেতর চরম উদ্বেগ।

মিরাজের স্ত্রী রিংকু বেগম জানান, আমার স্বামী ট্রাক চালাতেন। তার আয়েই চলত সংসার। তবে দুই বছর আগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ট্রাকটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। এরপর থেকে তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে বসতভিটা ছাড়া সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তবুও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। অর্থাভাবে এখন থমকে আছে আমার স্বামী মিরাজের চিকিৎসা। এখন কারও সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরাও করতে পারেন না তিনি। পঙ্গু হয়ে ঘরে কাতরাচ্ছেন আমার স্বামী। তবে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো আবারও কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেন তিনি।

এজন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবান মানুষ, প্রবাসী এবং মানবিক সংগঠনগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে আমাদের পাশের দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি। তার চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা করতে ০১৩২০৬২৪৬১৩-এই (বিকাশ ও নগদ ব্যক্তিগত) নম্বরে যোগাযোগেরও অনুরোধ রইলো।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, মিরাজ ইতোমধ্যে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা পাবেন ওই ব্যক্তি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!