করোনাভাইরাসের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় গণবিয়ে
চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। এখন পর্যন্ত ভয়াবহ এই ভাইরাসে ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছে ৩১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
করোনাভাইরাস সংক্রমনের আতঙ্কে চীনে লোকজনের গণজমায়েতের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বিয়ের মত সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও। এদিকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের হুমকিকে বুড়ো আঙ্গুলি দেখিয়ে ঐতিহ্যবাহী গণবিয়ের আয়োজন করেছে চীনের প্রতিবেশি দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। আর এই গণবিয়েতে অংশ নিয়েছে দেশটির কয়েক হাজার যুগল।

শুক্রবার সিউলের উত্তরপশ্চিমের গ্যাপিঅংয়ের চেয়ং শিম পিস ওয়ার্ল্ড সেন্টারের এ আয়োজনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
করোনাভাইরাস শঙ্কা ছায়া ফেলেছিল এই গণবিয়েতেও। সে কারণে চার্চের কর্মীরা উপস্থিতদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও সার্জিকাল মাস্কসহ নানান উপকরণও রেখেছিলেন। সবার শরীরের তাপমাত্রাও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।
অবশ্য এরপরও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বেশিরভাগ যুগলকে মাস্ক ছাড়াই দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ প্রসঙ্গে গণবিয়েতে অংশ নেয়া ২৩ বছর বয়সী কনে নগুসেন মিঅংগুয়েত ওয়ালেহেত বলেন, ‘স্বামীর কাছে যেন সুন্দর লাগে, এ জন্য আমি মাস্ক পরিনি।’
বেনিনের বাসিন্দা এ নারীর আরেক উদ্দেশ্য ছিল ‘ট্রু মাদার’ খ্যাত হাক জা হান মুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ। যে গির্জার অধীনে এ গণবিয়ে, হাক জা হান দক্ষিণ কোরিয়ার সেই ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা সুং মিয়ং মুনের স্ত্রী। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এ চার্চটি প্রতিষ্ঠা করে মুন নিজেকে ও স্ত্রীকে ‘মেসিয়াহ’ ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৬১ সাল থেকে ২০০২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার অধীনেই এ গণবিয়ে হতো।
চলতি বছর মুনের জন্মশতবর্ষ হওয়ায় জনসমাগম বেশি হবে বলে আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল।