যে ভুল হলে আপনার সিভি খুলবেই না নিয়োগদাতা
আজকাল চাকরি যেন সোনার হরিণ। একটা চাকরির জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলার মতো অবস্থা হয় চাকরিপ্রার্থীদের। এর মধ্যে আবার মহামারি করোনাকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে চাকরি হারাচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ।
তবে করোনা কেটে আবারো স্থিতিশীল হবে চাকরির বাজার। যেকোনো চাকরি খুঁজতে গেলে অবশ্যই উপযুক্ত ও আকর্ষণীয় সিভি বা আবেদনপত্র চাকরিপ্রার্থীকে বানাতেই হবে। শুধু যে চাকরি তাই নয়, যেকোনো ধরনের প্রতিযোগিতা, গবেষণা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে সিভি চেয়ে থাকে।
তবে আপনি নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য মনে করলেও সিভি লেখা বা পাঠানোতে কিছু ভুলের কারণে সিভিটি খুলেও দেখবেন না নিয়োগদাতা বা কর্তৃপক্ষ। সে ক্ষেত্রে চাকরির পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক না পেয়ে আপনার ধারণা হয়, হয়তো আপনাকে নিয়োগদাতারা পছন্দ করেননি। তবে আপনি জানেনও না যে, আপনার সিভি তারা খুলেননি। কেন আপনার সিভি নিয়োগদাতারা খুলে দেখবেন না, চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেগুলো সম্পর্কে-
ই-মেইলে সাবজেক্ট বা বিষয় লিখতে ভুল
আবেদন করার সময় অবশ্যই খেয়াল করতে হবে। কোন ফরম্যাটে আপনাকে সিভি পাঠাতে বলেছে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান। পোস্ট বা বিষয়ও উল্লেখ করা থাকে। ফলে ই-মেইল করার সময় সাবজেক্ট অপশনে সেটিই লিখতে হবে। কোনোভাবেই সাবজেক্টে মাই সিভি এমন লেখা যাবে না। একটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পোস্টের জন্য হাজার হাজার সিভি জমা পড়ে, সেখানে সাবজেক্টে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা না থাকলে আপনার সিভি অসংখ্য মেইলের ভিড়ে হারিয়ে যাবে।
অযৌক্তিক ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার
আমরা অনেক সময় এমন ই-মেইল থেকে সিভি পাঠাই, যা আমাদের নামের সঙ্গে সম্পর্কহীন বা যুক্তিযুক্ত নয়। যা সিভি পাঠানোর ক্ষেত্রে একদমই উচিত নয়। ই-মেইল ঠিকানা হতে হবে নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে। সিভি পাঠানোর জন্য প্রয়োজনে আলাদা ই-মেইল ঠিকানা খুলে নিতে হবে।
ই-মেইলে ভুল বানান
বানান ভুল অনেক মারাত্মক বিষয়। মেইলের সাবজেক্টে বা বিবরণে ভুল বানান থাকলে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা হয় নিয়োগদাতাদের। বানানসহ ব্যাকরণগত ভুল থেকে যায় অনেকের মেইলে। এসব ভুল এড়িয়ে চলা অবশ্যই উচিত।
সঠিক নামে সিভির ফাইল সেভ না করা
বিভিন্ন শব্দ দিয়ে অনেকে সিভি লিখে ফাইলটি সেভ করেন। এমন ভুল অনেকেই করে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো নামে ফাইল সেভ না করায় আপনার সিভি খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। ফলে দেখা যায়, আপনার সিভি খুলেই দেখেননি নিয়োগদাতারা। পোস্ট সহকারে নিজের নাম দিয়ে ফাইল সেভ করাটাই যুক্তিযুক্ত।
আলাদাভাবে সিভি এবং ছবি পাঠানো
অনেকেই ভিন্ন মেইলে সিভি ও ছবি পাঠান। এক মেইলে সিভি ও ছবি পাঠাতে হবে। কারণ শত শত আবেদনকারীর মেইলের মধ্যে আলাদাভাবে আপনার ছবি খুঁজবে না কেউ।
কভার লেটার সংযুক্ত না করা
অনেকে শুধু সিভি পাঠিয়ে দিয়েই চাকরির আবেদন করে ফেলে, সঙ্গে কভার লেটার পাঠান না। কভার লেটার না চাইলেও আপনার উচিত সিভির সঙ্গে কভার লেটার সংযুক্ত করে দেয়া। চাকরিটির জন্য আপনি কেন যোগ্য, নতুন প্রার্থী হলে চাকরির ব্যাপারে আপনার আগ্রহ কেমন, আপনার দক্ষতা আর জ্ঞান কিভাবে এই চাকরিতে আপনাকে সাহায্য করবে ইত্যাদি কভার লেটারে উল্লেখ করুন।
সিভি ও কভার লেটার একসঙ্গেই পাঠাতে হবে। ই-মেইলের বডিতে আলাদাভাবে কভার লেটার না পাঠিয়ে সিভির সঙ্গে পিডিএফ ফরম্যাটে পাঠানোই অধিক যুক্তিসঙ্গত।