ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর মুখ খুললেন ক্রিস্টা পাইক

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর মুখ খুললেন ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এক আদালতে ক্রিস্টা পাইক। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ক্রিস্টা পাইক (৫০)। তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর থেকে সারাক্ষণ শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন পাইক।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সেই রাতের পর থেকে এমন একটি মুহূর্তও আসেনি, যখন আমি ব্যথামুক্ত ছিলাম। এই যন্ত্রণা শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনেরই।’

পাইক আরও বলেন, ওই ঘটনার পর তিনি কখনোই বেঁচে থাকার কথা ভাবেননি। যাঁদের অদক্ষতার কারণে এত মানুষকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা নিয়েও গভীরভাবে মর্মাহত তিনি।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী এক সহপাঠীকে নির্যাতন, ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন ক্রিস্টা পাইক। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। এ অপরাধে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নিহত তরুণীর মা ফ্লোরিডা থেকে টেনেসিতে এসেছিলেন। বিবৃতিতে পাইক নিহতের পরিবার এবং তাদের সহ্য করা কষ্ট ও ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন।

পাইকের আইনজীবীদের দাবি, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ ফেনোবারবিটালের দুটি পৃথক ডোজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওষুধটি রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে না পারায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। বরং ওষুধ দুই বাহুতে জমা হয়ে গুরুতর ক্ষত ও ফোসকার সৃষ্টি করে।

ব্যর্থ ওই প্রচেষ্টার পর কয়েক দিন অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন পাইক। পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে আবার টেনেসির কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে এবং তাঁকে নির্জন কারাকক্ষে রাখা হয়েছে।

পাইককে অন্য বন্দিদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ দিতে তাঁর আইনজীবীরা একটি ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, এভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখার কারণে পাইক গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের জন্য টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।

তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গভর্নর বিল লি বলেন, আদালত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে পাইকের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলে তিনি মনে করছেন।

এ ঘটনায় টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে স্বাধীন পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর। পাশাপাশি চলতি বছর নির্ধারিত অন্যান্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সূচিও স্থগিত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের সংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!