ঢাকা,  শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

ইতালিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও শ্রমিকের বিক্ষোভ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:০৭, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ইতালিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও শ্রমিকের বিক্ষোভ
ছবি: এএফপি

সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে, শিক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইতালিজুড়ে রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ শ্রমিক।

আশপাশের দেশ ফ্রান্স ও স্পেনের সমসাময়িক আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁবু গেড়ে এবং স্কুল দখল করে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের পর ইতালি-ব্যাপী শুক্রবারের এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। 

ইতালির 'ইউএসবি' ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা এই সর্বাত্মক ধর্মঘটে ট্রাক চালক, ট্যাক্সি চালক এবং কৃষকসহ হাজার হাজার শ্রমিক যোগ দেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বর্ধিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিরুদ্ধে তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ সোচ্চার হয়েছেন।

রাজধানী রোম, বোলোনিয়া, জেনোয়া, নেপোলস এবং তুরিনসহ দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক শহরে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তুরিনে বিক্ষোভের শুরুতে আন্দোলনকারী ও দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

রোমে ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিয়েত্রিস চিল্লেল্লি জানান, শিক্ষার্থীরা এই মুহূর্তে চরম ধৈর্যচ্যুতির শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। রোমের একটি একক কক্ষের বাসা ভাড়া প্রতি মাসে ১,২০০ ইউরো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে উল্লেখ করে চিল্লেল্লি বলেন, তারা আকাশচুম্বী টিউশন ফি এবং বাসা ভাড়া মেটাতে পারছেন না... যা তাদের বাবা-মায়ের ওপর প্রচণ্ড ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রোমের কেন্দ্রীয় টার্মিনি রেলস্টেশন থেকে হাজার হাজার মানুষ দুটি ট্র্যাক্টর ও একটি ট্যাক্সি নিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন। তারা পতাকা নেড়ে, ব্যানার উঁচিয়ে এবং মেগাফোনে স্লোগান দিতে দিতে কলোসিয়াম অতিক্রম করেন।

এএফপি-র একজন আলোকচিত্রী অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের সামনে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন দেখতে পান, যার পাশ দিয়ে বিক্ষোভকারী দলগুলো পার হচ্ছিল।

ভিড়ের মধ্য থেকে একদল আন্দোলনকারী গাজায় বোমা হামলার ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শনের সময় বাকিরা সমস্বরে গেয়ে ওঠেন ‘আমাদের জন্য বোমা নয়, আরও বাড়িঘর চাই!’

মিলানেও কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তবে এরপর মিছিলটি শহরের বাইরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গত দুই সপ্তাহ আগের এক অনুমোদিত বিক্ষোভের পর একদল উগ্র যুবক দোকানপাট লুটপাট, সম্পত্তি ধ্বংস এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল; তাই এবার তাদের মূল শহর থেকে দূরে রাখা হয়।

মিলানে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত একটি ব্যানারে লেখা ছিল ‘চলুন আমাদের ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধার করি।’

দাঙ্গা প্রতিরোধক গিয়ার পরা পুলিশ সদস্যরা রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ করে রাখলেও দুপুর পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, শ্রমিক এবং বয়োবৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত মানুষজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোমে এক বৃদ্ধ ব্যক্তির হাতে থাকা বোর্ডে লেখা ছিল ‘অবসরপ্রাপ্তরা বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ।’

বড় বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীদের মিছিলে ফিলিস্তিনের সমর্থনে অজস্র পতাকা দেখা গেছে।

বিক্ষোভের আগে 'ওএসএ' শিক্ষার্থী আন্দোলনের ১৮ বছর বয়সী মুখপাত্র লরা তেরেসী এএফপি-কে জানান যে, তিনি স্কুল-কলেজ ফাঁকা করে এক ‘বিশাল গণজাগরণের’ আশা করছেন।

লরা তেরেসী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরকারের পুনরায় অস্ত্রসজ্জা নীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমরা রাজপথে নামব। ব্যয়ের হিসাব পরিবার, শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিনিয়ত ভারী বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।’

তেরেসী আরও জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে অবিরাম বাজেট ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাবে।

আইন ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
গত ১৭-১৮ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে মিলানে যুবক ও পুলিশের মধ্যকার সংঘর্ষের পর, মেলোনির উগ্র-ডানপন্থি সরকার জনসমাবেশ সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করেছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটকের নিয়ম শিথিল করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক চালক, কৃষক এবং জেলেদের জন্য গত সপ্তাহে ১৭ কোটি ৫২ লাখ ইউরোর (১৯.৫ কোটি ডলার) একটি সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হয়েছে সরকার।

বিভিন্ন ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বর্তমানে আলোচনাধীন ২০২৭ সালের খসড়া বাজেটে তরুণ ও পরিবারগুলোর সুবিধার্থে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেমন ৩০ বছরের কম বয়সী শ্রমিকদের জন্য বছরে ২,৫০০ ইউরো বোনাস দেওয়া।

গত বুধবারে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ ভাঙচুরকারীদের জন্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি এটি সাধারণভাবে তরুণ সমাজকে একটি বার্তা দেবে... যারা মনে করেন রাষ্ট্র তাদের পরোয়া করে না।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!