ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে অচল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ১২ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে অচল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গত ২২ দিন ধরে দ্বীপটির তিনটি বড় টার্মিনালের কোনোটিতেই নতুন করে তেল বা গ্যাসের চালান পৌঁছায়নি। বুধবার (১২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপটি দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রায় ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপের টার্মিনালগুলো দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাস বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ফলে দ্বীপটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রমাণিত তেলের মজুত প্রায় ২০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট মজুদের প্রায় ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। তেল মজুদের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা ও সৌদি আরবের পর ইরানের অবস্থান তৃতীয়। দেশটির অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে তেল রপ্তানিনির্ভর। রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়।

খার্গ দ্বীপ মূলত ইরানের তেল ও তরল জ্বালানি গ্যাস রপ্তানির প্রধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও তরলীকরণের পর তা ট্যাংকারে করে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালগুলোতে আনা হয়। পরে সেখান থেকে ইরানি ট্যাংকারে করে এসব জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে দেশটির তেল ও গ্যাস উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালগুলোতে নতুন কোনো চালান পৌঁছাচ্ছে না।  

উইন্ডওয়ার্ডের কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, গত ২২ দিন ধরে খার্গ দ্বীপের তিনটি বড় টার্মিনালের কোনোটি থেকেই নতুন চালান পাঠানো বা সেখানে নতুন চালান পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ৩১ জুলাইয়ের পর দ্বীপটি থেকে নতুন কোনো তেল রপ্তানি চালানও বের হয়নি। বর্তমানে খার্গ দ্বীপের বন্দরে ১৭টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করে আছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরু করার পর তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!