মোদির নতিস্বীকার, তবু কেন রাজপথ ছাড়ছে না শিক্ষার্থীরা
ভারতজুড়ে নজিরবিহীন ছাত্র ও যুব আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এ ঘটনাকে নরেন্দ্র মোদি সরকারের গত এক দশকের শাসনকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় পিছুটান ও নতিস্বীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু, এরপরও রাজপথ ছাড়ছে না ভারতীয় শিক্ষার্থীরা।
নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং বেকারত্ব নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লাগাতার বিক্ষোভের পর ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন। শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দিল্লির জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিক্ষোভস্থলগুলো ঐতিহাসিক বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে, যেখানে আন্দোলনকারীরা একে সাধারণ যুবসমাজের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে অবিহিত করছেন।
এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর নিজেদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে আত্মপ্রকাশ করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা’ বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা করেছে যে এটি মূলত গণতন্ত্র এবং অবহেলিত ‘তেলাপোকা’দের জয়।
.png)
উল্লেখ্য, বেকার যুবকদের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করার পর শিক্ষার্থীরা এই নাম ধারণ করে রাজপথে নেমেছিল। মন্ত্রীর পদত্যাগে আন্দোলনের একটি বড় লক্ষ্য পূরণ হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। কারণ আন্দোলনকারীরা তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ও চূড়ান্ত দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
পদত্যাগের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের তৃতীয় দফার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
আন্দোলনকারীদের পরবর্তী প্রধান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রশ্নফাঁসের মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিযানের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ফৌজদারি মামলা (এফআইআর) অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
এদিকে যেকোনো ধরনের বড় গণজমায়েত ও নতুন বিশৃঙ্খলা এড়াতে রাজধানী দিল্লির অন্তত ১৮টি মেট্রো স্টেশন এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ সাময়িকভাবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে প্রশাসন।
বিহারসহ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে পুলিশের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি এখনও সচল রয়েছে এবং ছাত্রনেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অন্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।