ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার রায়ে স্বজন হারানো বাংলাদেশিদের মিশ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:৫১, ২৭ আগস্ট ২০২০
ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার রায়ে স্বজন হারানো বাংলাদেশিদের মিশ্র
ছবি: ক্রাইস্টচার্চ হামলায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি ফরিদ উদ্দীন

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দু’টি মসজিদে বন্দুক হামলা চালানো ব্রেন্টন ট্যারান্টকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ওই হামলার ভুক্তভোগী বাংলাদেশি নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

রায় ঘোষণার পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’কে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

গত বছরের ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে বন্দুক হামলা চালায় ২৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ওই হামলায় নিউ জিল্যান্ড প্রবাসী ৫ বাংলাদেশি নাগরিকসহ ৫১ জন মারা যান, আহত হন আরো অনেকে।

হামলার ঘটনায় ব্রেন্টন টারান্টকে নিউ জিল্যান্ডের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হলেও সেদেশের আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকায় কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হামলার দিন বাংলাদেশি বাবুল ও তার স্ত্রী আফসানা আক্তার রিতু একটি মসজিদের ভেতর ছিলেন। তবে তিনি বেঁচে যান। তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ ৫১ জনকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করার পরো কীভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়? আমরা এই রায়ে কিছুটা মনক্ষুণ্ণ।’

তিনি জানান ওই ঘটনার পর এক মাসেরও বেশি সময় তার স্ত্রী ঘর থেকে বের হননি। সবসময় দরজা জানালা বন্ধ করে রাখতেন। তার কথায়, আমার স্ত্রী এখনো পুরোপুরি ওই আতঙ্ক থেকে বের হতে পারেননি। মনে হয় না কখনো পারবেন।

তবে বাবুলের মতো রায়ে অসন্তোষ নেই সব ভুক্তভোগীর। আল নূর মসজিদে বন্দুক হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ওমর জাহিদ। এখনো শারীরিকভাবে শতভাগ সুস্থ হতে পারেননি তিনি। তার কয়েকজন সহপাঠী এবং পরিচিত ব্যক্তিও সেসময় হামলায় মারা গিয়েছিলেন।

নিউ জিল্যান্ডের আইন অনুযায়ী ব্রেন্টন টারান্টের হওয়া শাস্তির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দোষীকে যদি মৃত্যুদণ্ড দেয়াও হতো, তাহলেও তো আমার মারা যাওয়া বন্ধুরা, পরিচিতরা ফিরে আসতো না। আমার মতো যারা আহত হয়েছেন, তারা তো আর সুস্থ, স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু নিউ জিল্যান্ডের আইনের সর্বোচ্চ সাজাটাই তাকে দেয়া হয়েছে, তাই আমি সন্তুষ্ট। আমার মনে হয় যে সুবিচারই হয়েছে।’

রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ওই হামলায় প্রাণ হারানো হোসনে আরা ফরিদের স্বামী ফরিদ উদ্দীন আহমেদ। হামলার কয়েকদিন পরই ফরীদ উদ্দীন আহমেদ সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন যে, হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টকে তিনি এবং তার পরিবার মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সেই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি তিনি করেছেন হামলাকারী টারান্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও।

তিনি বলেন, হামলাকারীকে আমি এবং আমার মেয়ে ক্ষমা করতে পেরেছি বলেই এখন আমরা মানসিকভাবে শান্তিতে রয়েছি বলে আমার বিশ্বাস। এখন হামলাকারীকে শাস্তি দেয়া হলেও আমার মানসিক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

উল্লেখ্য, নিউ জিল্যান্ডের বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই প্রথমবারের মতো নিউ জিল্যান্ডে প্যারোল ছাড়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়া হলো। হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!