ঢাকা,  রোববার   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ তথ্য প্রযুক্তি ]

গ্রামীণফোনের শ্রম বিরোধ নিয়ে নরওয়ের সংলাপ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৪১, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্রামীণফোনের শ্রম বিরোধ নিয়ে নরওয়ের সংলাপ
ছবি সংগৃহীত

গ্রামীণফোনের শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে টেলিনর এএসএ ও সাবেক ২১ কর্মী ও ইউনিয়ন নেতার মধ্যে ছয় মাসের সংলাপ শুরু করেছে নরওয়ের ন্যাশনাল কন্টাক্ট পয়েন্ট ফর রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট। নরওয়ে সরকারের প্রতিষ্ঠিত ও অর্থায়নে পরিচালিত স্বাধীন এই সংস্থা বিষয়টি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট -এর নির্দেশনার আলোকে পর্যালোচনা করছে।

অভিযোগের সূত্রপাত ২০১২ সালে। সাবেক কর্মীদের দাবি, ওই বছরের ২৩ জুলাই গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন নিবন্ধনের আবেদন করার পরদিনই ২০০-র বেশি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের মধ্যে ইউনিয়নের সভাপতি, সহসভাপতি ও যোগাযোগ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাও ছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, পুনর্গঠন কর্মসূচির আড়ালে ইউনিয়ন-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেছে নেওয়া এবং চাকরি ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়েছিল।

এ নিয়ে ২০১২ সালে শ্রম আদালতে মামলা করেন কর্মীরা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালে আপিল বিভাগ মামলাগুলো চলার পথ উন্মুক্ত করলেও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগকারীরা বলছেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে তারা কার্যকর প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) কাছেও অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

নরওয়ের ন্যাশনাল কন্টাক্ট পয়েন্ট ফর রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট ইউনিয়ন-সংশ্লিষ্ট চাকরিচ্যুতি, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং প্রতিকারের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগগুলো আরও পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, অভিযোগ গ্রহণের অর্থ টেলিনর বা গ্রামীণফোন কোনো অন্যায় করেছে—এমন সিদ্ধান্ত নয়। ছয় মাসের সংলাপ ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি।

অন্যদিকে টেলিনর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ২০১২ সালের কর্মী ছাঁটাই ছিল ব্যবসায়িক রূপান্তরের অংশ এবং ইউনিয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না। কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেও টেলিনর সরাসরি যুক্ত ছিল না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্রামীণফোনও বলেছে, নরওয়ের ন্যাশনাল কন্টাক্ট পয়েন্ট ফর রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট-এর প্রক্রিয়াটি কোনো অপরাধ বা অনিয়মের সিদ্ধান্ত নয়, দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক টেলিনর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!