এক জায়গায় লিখেছেন, ‘বাদল বাতাস মাতে মালতীর গন্ধে।’ অন্যত্র লিখেছেন, ‘ঐ মালতীলতা দোলে/ পিয়ালতরুর কোলে, পূব–হাওয়াতে।’
মালতী কাষ্ঠল লতাবিশেষ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Aganosma dichotoma। এটি Apocynaceae (Oleander family) পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এই ফুলের অন্যান্য নামের মধ্যে Malati, Clove scented echites, Malati Paalamalle, Mogari, Gondhomaloti, Maalatilata ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। অন্যান্য প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Echites caryophyllata।
.png)
পাতা আয়তাকার, ৮ সেন্টিমিটার লম্বা, বোঁটা ও শিরা লালচে। ফুল সাদা, সুগন্ধি, গড়নের দিক থেকে অনেকটা শিউলি ফুলের মতো, পাপড়ি মোড়ানো। বৃতি ৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও চোখা। দলনলের আগায় ৫ পাপড়ি, সরু ও লম্বা।
মালতীর শক্ত ডাল দিয়ে দাঁতের মাজন হয় যা খুবই উপকারী। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গ্রীষ্মের শেষ থেকে শুরু করে পুরো বর্ষা মালতী ফুল ফোটে। সাধারণত ১৪ মিটার (৪৬ ফুট) বেশি উঁচু হয় না।
এই গাছ শক্ত লতা জাতীয়। বড় গাছের গোড়ায় লাগালে সেই গাছ বেয়ে উপরে উঠে যায়। তবে বাগানে মালতী গাছ ছেঁটে ঝোপের আকৃতি দিয়ে রাখা যায়। এর ফল বা বীজাধার কমলা, লাল বা হলুদ রঙের হয়। বীজাধারে জোড়া বীজকোষ থাকে যার প্রতিটির ব্যাস প্রায় ৭ সেন্টিমিটার (২.৮ ইঞ্চি)। এর আয়ুর্বেদিক নাম মধুমালতিহলেও মালতী আর মধুমালতি এক নয়।
মালতীকে অনেক সময় ভুল করে মধুমালতী বা মধুমঞ্জরী (Quisqualis indica) নামে ডাকা হয়। কিন্তু বস্তুত ফুল দুটির গড়ন ও গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের। সুগন্ধী ফুলের পাশাপাশি মালতি গাছের রয়েছে চমৎকার কিছু ভেষজ গুণ।
ভেষজগুণ
১। অর্শ্বগন্ধা তেলে মালতী ফুল স্মৃতিশক্তিবর্ধক ও স্বপরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহার্য।
২। মালতী গাছের শিকড়ের রস পিত্তবিকার, দাঁত ব্যথা, মুখের ঘা, নিরাময়ে উত্তম।
৩। মালতী ফুলের রসের প্রলেপ কুষ্ঠরোগ, উন্মাদরোগ ও কাজলের মতো চোখে লাগালে উপকার হয়।
৪। মলতী পাতার ক্বাথ রক্তগতবাত, রক্তপিত্ত, রক্তপ্রদর, যোনিবিকার, ব্রনশোষ রোগে ব্যবহার্য।
৫। কুষ্ঠরোগে মালতী ফুলের রসের প্রলেপ বেশ কার্যকর।
৬। নানা ধরনের চর্মরোগেও মালতির পাতা ব্যবহার করা হয়।
৭। প্রসবকালে মায়েদের শরীরে জ্বালাপোড়ায় তাজা মালতী ফুল দিয়ে শরবত তৈরি করে খাওয়ালে উপশম হয়।
৮। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় মালতী গাছের শিকড়ের বাকল ও পাতার রস বেশ উপকারী।