অপূর্ব ঝুনঝুনি ফুল দেখতে অনেকটা অপরাজিতা বা বক ফুলের মতো। একে বন অতসী বা অতসীও বলা হয়। এই গাছের কান্ড সাধারণত ১-১.৫ মিটার উঁচু সোজা, সবুজ, অমসৃণ এবং অল্প রোম যুক্ত। ৩-৯ সেমি লম্বা ও ১-৪ সেমি চওড়া পাতাগুলি সবুজ, অখণ্ড এবং ডিম্বাকার। পাতার উপরিতল মসৃণ এবং নিম্নতল অমসৃণ রোমশ।
প্রজাপতির মত ঝুনঝুনির ফুলগুলো ১.৫-২.৫ সেমি লম্বা। পুষ্পদন্ডে একসঙ্গে অনেক হলুদ ফুল ফোটে। হলুদ রঙের তার ওপর সুন্দর লাল শিরার নকশা। পাঁপড়ির সংখ্যা ৫। ধ্বজা, পক্ষ ও তরীদল নিয়ে গঠিত। ঝুনঝুনি ফুল দেখতে খারাপ না হলেও এর গন্ধটা খুব একটা সুবিধার না।
.png)
ছোট ছোট বাচ্চারা এই জংলি ফুল যতটা না পছন্দ করে, তার থেকে বেশি পছন্দ করে এর পাকা ফল। খাওয়ার জন্য নয়, ফল পাকলে ভেতরের বীজগুলা শক্ত খোসার মধ্যে থাকে, অনেকটা বাদামের মতন, ঝাকি দিলেই ঝুনঝুন করে শব্দ হয়। এই জন্য এটি ঝুনঝুনি নামে পরিচিত।
একেকটি শুটির ভেতর ১৫-২০টি করে বাদামী কালো বীজ থাকে। তাই সামান্য ঝাকিতেই অনেক শব্দ হয়। আসলে ফল শুকিয়ে গেলে শুঁটির ভেতর বীজগূলো খসে পড়ে ফলে নাড়লেই ঝনঝন করে শব্দ হয়। হালকা হাওয়ায় অতসী বাগানের ঝুনঝুন আওয়াজ এক অপূর্ব অপার্থিব সুরমূর্ছনার সৃষ্টি করে।
ফল ৩-৪ সেমি লম্বা আয়তাকার এবং মসৃণ। শুঁটির মতো ফলগুলো কচি অবস্থায় সবুজ এবং যত পরিনত হতে থাকে তত রঙ ক্রমশ বাদামী থেকে কালোতে রূপান্তরিত হয়।
এই গাছের আদি নিবাস আফ্রিকা। তবে বর্তমানে আফ্রিকা ছাড়াও গ্রীষ্মমন্ডলীয় এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াও এর স্বাভাবিক আবাসস্থল। আগে এই উদ্ভিদটিকে আগাছা হিসেবে ধরা হতো। বর্তমানে অনেক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটি শস্য উদ্ভিদ হিসেবে চালু হয়েছে। ঝুনঝুনি গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। ঝুনঝুনি গাছের ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে।
ঝুনঝুনি গাছের ভেষজ গুণাগুণ
(১) ঝুনঝুনি গাছের মূল বেটে লাগালে চর্মরোগ ভালো হয়।
(২) শরীরের যেকোনো স্থান কেটে গেলে ঝুনঝুনি গাছের মূল বেটে লাগালে রক্তঝরা বন্ধ হয়ে যায়।
(৩) ঝুনঝুনি গাছের পাতা সিদ্ধ করে এই ক্বাথ সকাল বিকেল সেবন করলে জ্বর ভালো হয়।
(৪) ঝুনঝুনি গাছের পাতা সিদ্ধ করে এই ক্বাথ খেলে ফুসফুস জনিত সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।
(৫) ঠান্ডা জনিত সমস্যায় ঝুনঝুনি ফুল খেলে উপকার পাওয়া যায়।
(৬) ঝুনঝুনি গাছের বীজ বেটে লাগালে পোকামাকড়ের কামড়ের ব্যথা ভালো হয়।