প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া মূলত একটি উপসর্গ। এটি কোনো রোগ নয়। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হলে এটি হয়ে থাকে। আবার ছত্রাক বা ফাঙ্গাস দ্বারা আক্রান্ত হলেও এই সমস্যা হয়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সমস্যা সারানোর ঘরোয়া কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক-
(১) প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হওয়ার মূল কারণ হলো পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান না করা। পানি আমাদের দেহের বেশির ভাগ রোগ নিরাময় করতে সাহায্য করে। অপর্যাপ্ত পানি দেহের নানাবিধ রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে প্রস্রাবে জ্বলাপোড়া হয়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সাধারণত তাদের মাঝেই দেখা দেয় যারা দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করে না।
.png)
(২) ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার দারুণ কাজ করে প্রস্রাবের সংক্রমণের বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন সি শুধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বাড়ায় না, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে। নিয়মিত ভিটামিন সি খাওয়ার অভ্যাসে প্রস্রাব বেশি পরিমাণে অ্যাসিডিক হয়ে ওঠে যা প্রস্রাবে ইনফেকশন তৈরি করা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে।
(৩) ক্র্যানবেরি ফল ও ফলের জুস ভালো কাজ করে প্রস্রাবে ইনফেকশন মুক্তিতে। প্রোবায়োটিক খাবারও এ সমস্যা দূর করতে কার্যকরী। দই প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার। এ খাবার গ্রহণে শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ে।
(৪) নারীদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে মাসিক বা পিরিয়ড। প্রতি মাসেই মেয়েদের মাসিক বা পিরিয়ড হয়। সবাই সেই সময় ন্যাপকিন কিংবা কাপড় ব্যবহার করে। সেই ন্যাপকিন বা কাপড়ের সঙ্গেও জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে প্রবেশ করে এবং সংক্রমণের সৃষ্টি করে।
(৫) ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে প্রস্রাবের সংক্রমণ অনেকটাই কমে আসে। এজন্য প্রথমে যে কাজটি করবেন, বেশি সময় ধরে প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখবেন না। পাশাপাশি প্রস্রাবের সংক্রমণ কমাতে টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা ও ব্যক্তিগত অঙ্গের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন।