ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

ইফতারের পর মাথাব্যথা? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৮, ২৯ এপ্রিল ২০২১
ইফতারের পর মাথাব্যথা? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার
মাথাব্যথা। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ছে গরমের তীব্রতা। এর মধ্যেই সব মুসলিমরা সিয়াম পালন করছেন। এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লম্বা সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের মধ্যেই শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে। আবার পানিশূন্যতার কারণে শরীর ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাইতো সুস্থ থাকার জন্য ইফতারের পর থেকে সেহরির মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।

এই গরমে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা ছাড়াও অনেকের মধ্যেই ইফতারের পর মাথাব্যথা হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। যা খুবই বিরক্তিকর।

সাভারের ‘বিজিএমইএ’ হাসপাতালের ‘ফ্যামিলি মেডিসিন’ বিশেষজ্ঞ ডা. লিন্ডা এস সমদ্দার রোজার সময় মাথাব্যথার হওয়ার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানান।

Advertisement

এই সময়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমচক্র সর্বপরি সার্বিক জীবনযাত্রায় খানিকটা পরিবর্তন আসে। ফলে রক্তচাপের তারতম্য, পানিশূণ্যতা, গ্যাসের সমস্যা এবং সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা ও মাথাধরার সমস্যা দেখা দেয়।

মাথাব্যথা হওয়ার বেশ কিছু কারণের মধ্যে রয়েছে-

>> রোজার সময়ে খাবারের মাঝে দীর্ঘ বিরতি থাকে। ফলে দেহে ক্যালরির ঘাটতি দেখা দেয়। এরফলে মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।

>> বেশি ক্ষুধার্ত অবস্থায় দ্রুত খেলেও মাথাব্যথা হয়। কারণ দ্রুত খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। যা থেকে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের মাত্রা বাড়ে। ফলে মাথাব্যথার সৃষ্টি হয়।

>> এই সময়ে ঘুমচক্রেও একটা পরিবর্তন আসে। অনেকেই একবারে সেহরি শেষ করে ঘুমাতে যান ও সকালে ওঠেন। ফলে ঘুমের ঘাটতি থেকে যায়।  তাছাড়া অনেকে ঘুম থেকে উঠে সেহরির পরে আর ঘুমাতে পারেন না, ফলে ঘুমের ঘাটতি থাকে।

>> সেহেরি না করে রোজা রাখা; অপরিমিত খাবার খাওয়া- দেহে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ক্যালরির ঘাটতি পূরণ করে না। এসব কারণ সাধারণত মাথাব্যথা সৃষ্টির জন্য দায়ী।

রোজায় সুস্থ থাকতে করণীয়-

>> ভারী পরিশ্রম, রোদে অকারণে বাইরে ঘোরা ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

>> শরীরে পানি স্বল্পতা এড়াতে ইফতারের পরে ক্যাফেইন গ্রহণ না করাই ভালো।

>> রাতে সঠিক সময়ে সেহরি করতে হবে। এতে খাবার গ্রহণের মাঝে বিরতি ঠিক থাকবে।

>> খাবার তালিকায় প্রাকৃতিক মিষ্টি ও ফলমূল খাওয়া ভালো। এটা রক্তের শর্করা ও কার্বোহাইড্রেইট সরবরাহ করবে।

>> সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর এবং আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা। এতে হজম ধীর হবে ও পুষ্টি সরবরাহ করবে।

>> অনেকে মাথাব্যথার তীব্রতা কমাতে ইফতারের পরপরই চা, কফি বা নিকটিনের সহায়তা গ্রহণ করেন। এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

>> এছাড়াও উচ্চশব্দ, আলো ও মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশনের নীল আলো মাথাব্যথার প্রকোপ বাড়ায়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো।

>> পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ে দেহের পানির চাহিদা পূরণ করতে তরল ও রসালো ফলমূল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

>> দেহঘড়ি ঠিক রাখতে ঘুমের প্রয়োজন। তাই দৈনিক যেন সাত থেকে আট ঘন্টার ঘুম হয় তা নিশ্চিত করুন। তবে ভোর বেলায় ঘুমিয়ে দুপুর বেলায় ঘুম থেকে ওঠা মোটেও উপকারী নয়। তাই ঘুমের সময়সীমা ঠিক রাখুন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!