ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৩০, ৩০ মে ২০২৪
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ডেঙ্গুজ্বর (সমার্থক ভিন্ন বানান ডেঙ্গি) একটি এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসেই দেশে ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যু হয়েছে রেকর্ড ৩৩ জনের। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৩ হাজারে।

প্রচণ্ড খরতাপ আর শুষ্ক আবহাওয়ার মাঝেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই সংখ্যাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতে আরো মাথাচাড়া দেবে ভাইরাসটি।

বৃষ্টি যেমন ডেঙ্গুর বাহক এডিসের প্রজননের জন্য সহায়ক, তেমনি খরতাপ তার ঠিক বিপরীত। শুষ্ক প্রকৃতিতে বংশ বিস্তারের সুযোগ পায় না এডিস। গত কয়েক মাস এডিসের জন্য এক প্রকার প্রতিকূল পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশজুড়ে। কিন্তু হাসপাতালের বাস্তবতা কী? ডেঙ্গুর মূল মৌসুম ধরা হয় মূলত জুন ও জুলাইকে। বছরব্যাপী কমবেশি রোগী থাকলেও চলতি বছরের বাস্তবতা ভিন্ন, যার প্রমাণ মেলে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

Advertisement

এরই মধ্যে হাসপাতালটিতে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গত বছরের প্রথম ৫ মাসের তুলনায় চলতি বছর হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যানও বার্তা দিচ্ছে ভয়াবহতার।

চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে দেশজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে রেকর্ড গড়ার বছর ২০২৩ সালকেও। বিগত বছরের প্রথম ৫ মাসে ১৩ জনের মৃত্যু হলেও চলতি বছর এরই মধ্যে মারা গেছেন ৩৩ জন।

এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের ৩ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সাধারণত ডেঙ্গুজ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলোর মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি। ২ থেকে ৭ দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে, যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

এ কারণে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বৃষ্টিপাতে ডেঙ্গু আরো মাথাচাড়া দেবে আশঙ্কা করে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে মাসভিত্তিক কর্মকৌশল প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক প্রজাতির এডিস মশকী (স্ত্রী মশা) ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। যেগুলোর মধ্যে এডিস ইজিপ্টি মশকী প্রধানতম। তাই মশার আবাসস্থল ধ্বংস করে মশার বংশবিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী বিভিন্ন আধারে, যেমন, কাপ, টব, টায়ার, ডাবের খোলস, গর্ত, ছাদ ইত্যাদিতে আটকে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর হলে করনীয়

(১) ডেঙ্গুজ্বর হলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে এবং বেশি করে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।

(২) জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল দেওয়া হয়।

(৩) প্রায়শ রোগীর শিরায় স্যালাইন দিতে হতে পারে।

(৪) মারাত্মক রূপ ধারণ করলে রোগীকে রক্ত দিতে হতে পারে।

(৫) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক ও ননস্টেরয়েডাল প্রদাহপ্রশমী ওষুধ সেবন করা যাবে না, করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!