ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

বাংলাদেশে আঘাত হানা নামহীন যত প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:২৬, ১২ মে ২০২৩
বাংলাদেশে আঘাত হানা নামহীন যত প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়
অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রবল থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মোখা’। যে কারণে ঘূর্ণিঝড় ইস্যুই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। তবে ২০০৪ সালের আগে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো নাম ছিল না। তখন তাদের বলা হতো ‘স্যাভেয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’। এসব ঘূর্ণিঝড় যেসব স্থানে আঘাত হানতো সে স্থানের নামানুসারে পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হতো।

স্বাধীনতার আগে  ও পরে বাংলাদেশে আঘাত হানা প্রলয়ংকরী এমন কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের সময়কাল ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরা হলো-

১৯৬০-১৯৬১: ১৯৬০ সালের ৩০ থেকে ৩১ অক্টোবরে ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার গতির প্রবল ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী ও পূর্ব মেঘনা মোহনায়। ঝড়ের প্রভাবে ৫ থেকে ৬ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়। এতে মারা যান প্রায় ১০ হাজার মানুষ। পরের বছর ১৯৬১ সালের ৯ মে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মানুষ মারা যান ওই ঝড়ে।

Advertisement

১৯৬২-১৯৬৩: ১৯৬২ সালে ২৬ অক্টোবর ফেনীতে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় হাজারখানেক মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯৬৩ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার এবং সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, হাতিয়া ও মহেশখালী উপকূলীয় অঞ্চল। এই ঝড়ে প্রাণ হারান ১১ হাজার ৫২০ জন।

১৯৬৫-১৯৬৬: ১৯৬৫ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে প্রাণ হারান ১৯ হাজার ২৭৯ জন। সে বছর ডিসেম্বরে আরেক ঘূর্ণিঝড়ে কক্সবাজারে মৃত্যু হয় ৮৭৩ জনের। পরের বছর (১৯৬৬) অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে সন্দ্বীপ, বাকেরগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লায়। এতে মারা যান ৮৫০ জন।

১৯৭০ সাল: ওই বছরের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায় প্রলয়ংকরী ‘গ্রেট ভোলা সাইক্লোন'৷ এ ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২২২ কিলোমিটার। এ ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, ভোলার চর বোরহানুদ্দিনের উত্তর পাশ ও চর তজুমুদ্দিন এবং নোয়াখালীর মাইজদি ও হরিণঘাটার দক্ষিণপাশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঝড়ে প্রাণ হারায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ। আর চার লাখের মতো বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৯৮৮ সাল: ওই বছরের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। এ ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ হাজার ৭০৮ জন প্রাণ হারান।

১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়: ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া প্রবল এ ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার। এটি মূলত চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূলে আছড়ে পড়েছিল। ঝড়ের প্রভাবে ১২ থেকে ২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়। ২৯-৩০ এপ্রিলের এ ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেয়া হয় ‘শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে। এতে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল বলে জানা যায়। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ১ কোটির বেশি মানুষ।

১৯৯৭ এর ঘূর্ণিঝড়: ১৯৯৭ সালের ১৯ মে বাংলাদেশের সীতাকুণ্ড ও এর আশপাশের এলাকায় আরেকটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে। যার ঘণ্টায় ২৩২ কিলোমিটার বেগের বাতাসের সঙ্গে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!