ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ ফিচার ]

চুরি করতে গিয়ে ধর্ষণ করল ১২ নারীকে, কারাদণ্ড হলো ৮৯৭ বছরের

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০
চুরি করতে গিয়ে ধর্ষণ করল ১২ নারীকে, কারাদণ্ড হলো ৮৯৭ বছরের
ছবি: ওয়ালার

তিনি একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। নাম তার রয় চার্লস ওয়ালার। তবে অনেকেই তার নাম দিয়েছে ‘নরকাল ধর্ষক’। ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক নারীকে তিনি ধর্ষণ করেছেন। অনেক সময় তিনি বিভিন্ন নারীর বাড়িতে ঢুকে পড়তেন এবং জোর করে ধর্ষণ করতেন। এছাড়া তিনি চুরিও করতেন সেসব বাড়িতে। 

ধর্ষণ ছাড়াও অপহরণ, বিদেশি অনুপ্রবেশের সহায়তার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন ওয়ালার। আর এই সবগুলো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে ৮৯৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। যদিও বিগত ১৫ বছর ধরে তিনি জেলেই রয়েছেন। 

আরো পড়ুন: দিন-রাত পাপ কর্মে ডুবে আছে কুখ্যাত এক দ্বীপ

৬০ বছর বয়সী ওয়ালারের জন্ম ১৯৬০ সালের ৮ জানুয়ারি। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ৫টি কাউন্টিতে ওয়ালার এক ডজনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছেন। আর প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পুলিশ খুঁজে পেয়েছে ডিএনএ ম্যাচিং করে। 

ওয়ালারমোট ৪৬টি মামলা রয়েছে তার নামে। এসব অপরাধের শাস্তিস্বরূপ তার ৮৯৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আজীবন তাকে কারাগারেই বাস করতে হবে। 

পুলিশি তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, ওয়ালার তার কর্মকাণ্ড ঘটাত বিশেষ করে মাঝ রাতে। সে সময় ভিকটিমরা ঘুমিয়ে থাকত। কখনো আবার ওয়ালার সন্ধ্যার দিকেও বিভিন্ন নারীর ঘরে ঢুকে পড়ত। তবে এশিয়ান নারীদের প্রতি ওয়ালার আকৃষ্ট ছিলেন। তার শিকার হওয়া নারীদের বেশিরভাগই ছিলেন এশিয়ান।

আরো পড়ুন: ইট, পাথর ও মাটি খেয়েই ২৫ বছর পার

যেসব নারীরা এক বাস করত, প্রথমে তাদেরকে খুঁজে বের করতেন ওয়ালার। তারপর সুযোগ বুঝে তাদের ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা চালাতেন। সেসময় তিনি ভিকটিমকে বেঁধে অতঃপর তার উপর শাররিক নির্যাতন করতেন। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কখনো বা তিনি নারীদেরকে এটিএম বুথে নিয়ে গিয়ে কার্ডের পাসওয়ার্ডসহ মূল্যবান জিনিস কেড়ে নিতেন। একের পর এক প্রায় ডজনখানেক ধর্ষণ করেছেন এই ব্যক্তি।

ওয়ালারের ওই পোট্রেট ধরেই অপরাধী খুঁজছিলেন পুলিশওয়ালার ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সেইসঙ্গে তিনি সেফটি স্পেশালিস্ট হিসেবে ২৬ বছর ধরে কাজ করতেন ইউনিভার্সিটি অব বারকেলিতে। তার প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার প্যাটার্ন একই রকম ছিল। তারপরও পুলিশ তাকে সহজে গ্রেফতার করতে পারেনি। কারণ ভিকটিমদের কারো সঙ্গেই ওয়ালারের আগে কোনো সম্পর্ক ছিল না। এছাড়াও সে যেসব বাড়িতে ঢুকে এসব অপকর্ম করেছে সেসব স্থানে কোনো সিসি ক্যামেরাও ছিল না। শুধু ভিকটিমদের অনুমান নির্ভর ছবি ধরেই পুলিশ অপরাধী খুঁজতে থাকেন। 

আরো পড়ুন:‘অন্তর্বাস’ খুলে ঢুকতে হয় যে গ্রামে

২০০৬ সাল থেকে পুলিশ এ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে নামে। তাতে ৬টি ঘটনার সঙ্গে সন্দেহজনক একজনের ডিএনএ’র সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে এই সন্দেহজনক ব্যক্তি যে ওয়াকার এ বিষয়টি চিহ্নিত করতে পারছিলেন না তারা। কারণ রাজ্যের অপরাধ বিভাগে ডিএনএ’র ডাটাবেজ ছিল না।

অবশেষে জট খোলে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। তদন্তকারীরা ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়ালোজি (আইজিজি) তদন্ত শুরু করেন। এর মাধ্যমে সন্দেহভাজন কিছু অপরাধীর আত্মীয়স্বজনকেও রাখা হয়। এ অনুসন্ধান ওয়ালারকে শনাক্ত করতে সহায়তা করে। 

আজীবন কারাভোগ করতে হবে ওয়ালারকেডিস্ট্রিক্ট এটর্নির মতে, এসব ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য শেয়ার করা হয় আইন প্রয়োগকারীদের সঙ্গে। ধারাবাহিকভাবে তদন্ত চলতে থাকে ফ্যামিলি ট্রি বা পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে। এক পর্যায়ে ফোকাস পড়ে ওয়ালারের ওপর। একই ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় ‘গোল্ডেন স্টেট কিলার’ শনাক্ত করতে। এর কয়েকদিনের মধ্যে বার্কলিতে কর্মস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় ওয়ালারকে।

অপহরণ, ধর্ষণ, ওরাল যৌনক্রিয়া, বলাৎকার ও বিদেশে অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালত তাকে ৮৯৭ বছরের জেল দিয়েছে। রয় চার্লস ওয়ালার তার অপরাধের কারণে পরিচিতি পেয়েছে ‘নরকাল রেপিস্ট’ বা নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ধর্ষণকারী হিসেবে। শুক্রবার আদালত তার বিরুদ্ধে ওই রায় দিয়েছে। ফলে তাকে এখন বাকি জীবন রাজ্যের কারাগারে কাটাতে হবে। 

সূত্র: সিএনএন

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!