ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ বিনোদন ]

পরীমনির মায়ের মৃত্যু আগুনে পুড়ে, হত্যা করা হয় বাবাকে

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৪১, ৬ আগস্ট ২০২১
পরীমনির মায়ের মৃত্যু আগুনে পুড়ে, হত্যা করা হয় বাবাকে
পরীমনি ও তার বাবা মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমনি বোধহয় একজন ম্যাজিশিয়ান! চলচ্চিত্র মুক্তির আগেই যে তারকাখ্যাতি পাওয়া যায়, সেই বিরল ঘটনা আঙুল তুলে দেখিয়েছিন পরীমনি। আর ছয় বছরের মধ্যে ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়িকাও বনে যান। এ যেন এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।

পরীমনি নামের আড়ালে ঢাকা পড়া শামসুন্নাহার স্মৃতির চলচ্চিত্রে আগ্রহ তেমন ছিল না। মফস্বল থেকে ঢাকায় এসে টুকটাক মডেলিং ও টিভি নাটকই করছিলেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে শুরুতে রাজি না হলেও পরে নানার উৎসাহে নাম লেখান। প্রথম সিনেমা ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ মুক্তির আগেই অন্তত ২০টি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান।

ছোটবেলায় বাবা ও মাকে হারিয়েছেন পরীমনি। এই নায়িকা প্রায়ই বলতেন, এগুলো তার জীবনের সবচেয়ে ‘অন্ধকার’ অধ্যায়। ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকে পরীমনির মা সালমা আগুনে পুড়ে মারা যায়। তার মৃত্যুর বিষয়টি অনেকটা রহস্যাবৃত। এরপর থেকে পরীমনিকে তার বাবা সঙ্গে রাখতেন। পরী মাঝে মধ্যে বরিশালে তার নানা বাড়ি গিয়ে থাকতেন।

পরিমণির ছোট খালা তাসলিমা পাপিয়া বলেন, ২০১২ সালে খুন হন স্মৃতির বাবা মনিরুল ইসলাম। মূলত চাকরি চলে যাওয়ার পর তিনি তার গ্রামের বাড়িতে থেকে ব্যবসা করতেন। আমরা শুনেছি, সেই ব্যবসার বিরোধ নিয়ে রাতের অন্ধকারে তাকে শত্রুরা কুপিয়ে মেরে ফেলে। স্মৃতির মা মারা যাওয়ার পরে ওকে আমরাই লালন-পালন করে বড় করেছি।

এরপর সাভারে তার এক খালার বাসায় থাকতেন। এ সময় উক্ত মডেল পরীমনিকে মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালান। ২০১৪ সালে এক নাট্যপরিচালকের একটি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়া হয়। নাটকটি এসএ টিভিতে প্রচার হয়েছিল। সেই থেকে পরীমনি মিডিয়ার নানা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলে যান। নাটক থেকে চলচ্চিত্রে গিয়ে প্রভাবশালীদের ছায়ায় থেকে একের পর এক সিনেমা শুরু করেন।

মাত্র ছয় বছরের ক্যারিয়ারে ৩০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। শীর্ষ নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর আলোচিত পর্দায় প্রীতিলতা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনই ঘটে গ্রেফতারের ঘটনা।

বুধবার বিকেলে পরীমনির বনানীর বাসায় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে যান র‍্যাবের গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করে র‍্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করার কথা জানায় র‍্যাব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!