ঢাকা,  বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

[ বিনোদন ]

ট্রেন থেকে লাফ দিয়েও কণ্ঠশিল্পী আনিকাকে বাঁচাতে পারলেন না মা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২১, ৯ অক্টোবর ২০২০
ট্রেন থেকে লাফ দিয়েও কণ্ঠশিল্পী আনিকাকে বাঁচাতে পারলেন না মা
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও কণ্ঠশিল্পী আন্তারা মোকাররমা আনিকা।

মা আসমা হোসেনকে নিরাপদে ট্রেনে উঠিয়ে নিজে উঠার সময় পেছলে যায় কণ্ঠশিল্পী আন্তারা মোকাররমা আনিকার পা। আর চোখের সামনেই মেয়ের বিপদ দেখে ট্রেন থেকে নিচে লাফও দেন মা। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি আদরের মেয়ে আনিকাকে। ট্রেনের চাকায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মেয়ের দেহ। আর চোখের সামনে মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন মা আসমা।

শুক্রবার ভোরে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। আনিকার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠীসহ কিশোরগঞ্জ শহরের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

নিহত আনিকা কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টির এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবা মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি গুরুদয়াল সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আনিকা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখও ছিলেন।

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আনিকার নানা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নানাকে দেখতে শুক্রবার ভোরে মা আসমা হোসেনকে নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডির উদ্দেশ্যে রওনা হন আনিকা। মা ও মেয়ে কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশনের পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে আন্তঃনগর এগারসিন্ধুর প্রভাতি ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। এ সময় দৌড়ে ট্রেনের কামরায় উঠেন মা আসমা বেগম। তখন মাকে ট্রেনে উঠতে সহায়তা করেছিলেন আনিকা। তবে নিজে ট্রেনের উঠার সময় বাধে বিপত্তি। আনিকা ট্রেনের হাতল ধরে যখন ট্রেনে উঠার জন্য পা দেন তখনই পিছলে যায় তার পা।

আনিকা পা পিছলেই ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে যান। চোখের সামনেই মেয়ের পড়ে যাওয়া দেখে ট্রেন থেকে নিচে লাফ দেন মা আসমা হোসেন। তবে এর আগেই মেয়ের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। চোখের সামনেই মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা আসমা।

আসমা হোসেন বলেন, ট্রেন ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছিল। তখন আনিকার সহায়তায় আমি ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম। এরপর সে ট্রেনের হাতল ধরে কামরায় উঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ চোখের সামনেই পা পিছলে ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে যায় আনিকা। আমি ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে দেখি, মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে ট্রেন।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ওসি আবদুর রহমান বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে রেললাইন থেকে আনিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আনিকার বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!