ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

সান্ধ্যকালীন এলএলএম’কে ব্যবসা হিসেবে দেখছেন রাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
সান্ধ্যকালীন এলএলএম’কে ব্যবসা হিসেবে দেখছেন রাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধের দাবি জানিয়ে দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্সগুলোর নামে মূলত সার্টিফিকেট ব্যবসা করা হয়। তাদের পড়ালেখার মান নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাদের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া হলেও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয়। বৈষম্যহীন নতুন দেশে এখনই উপযুক্ত সময় এটি বন্ধ করার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধের দাবিতে দেয়াল লিখনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা লিখেছেন। এর মধ্যে ‘সান্ধ্য কোর্স বন্ধ হোক’, ‘সার্টিফিকেট ব্যবসা বন্ধ কর’, ‘বাণিজ্যিক শিক্ষা বন্ধ কর’, ‘নিশি রাতের ব্যবসা বন্ধ কর’, ‘নো মোর সান্ধ্য কোর্স’, ‘বৈষম্য দূর হোক’, ‘এলএলএম ব্যবসা বন্ধ হোক’, ‘ডিগ্রি দোকান বন্ধ হোক’ প্রভৃতি।

Advertisement

বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহির আমিন বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিল করতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৪ সালে এটি বাতিলের আন্দোলনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ও পুলিশের হামলার অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। শিক্ষার্থীরা সান্ধ্যকোর্স বাতিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরার পরও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এটি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এখন উপযুক্ত সময় আসছে সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে সার্টিফিকেট ব্যবসার দোকান বন্ধ করার। নাহলে অদূর ভবিষ্যতে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত মূল্যায়ন পাবে না এবং মেধা দিয়ে গড়ে উঠবে না।

দেয়াললিখন কর্মসূচিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, আমরা আইন বিভাগের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে এই মানহীন সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোর বিপক্ষে। সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়মিত হয় কিন্তু নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল দিনের পর দিন আটকে থাকে। তারা সেশনজটে থাকে। সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও সিলেবাস নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে। শিক্ষা কোনোভাবেই পণ্য হতে পারে না। এই সান্ধ্যকোর্স একটা সার্টিফিকেট ব্যবসা ছাড়া কিছুই না। একটা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তারা সার্টিফিকেট নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা চাই, টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট ব্যবসা বন্ধ হোক।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু জানান, আজ সকালে বিভাগে এসেই তারা এই বিষয়ে অবগত হন। এ বিষয়ে ছাত্রদের পক্ষ থেকে  অফিসিয়াল কোনো অভিযোগ পাননি। বিষয় নিয়ে আগামীকাল মিটিং হবে।
রাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, গতকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে আমি এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তবে বিভাগ বা কোনো শিক্ষার্থী অফিসিয়ালি কোনো অভিযোগ দেননি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: রাবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!